বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম–এর প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। পরিবার জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মরদেহ কবে দেশে আনা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় চূড়ান্ত হলে পরিবারের তরফে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন, তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা। এক শোকবার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
১৯৬৭ সালের ১৪ জুন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জন্ম। তার সাংবাদিকতার সূচনা হয় ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এঙপ্রেস পত্রিকায়। তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্যারিসের জার্নালিস্টস ইন ইউরোপ ফাউন্ডেশন এবং জাপান ফরেন প্রেস সেন্টারের ফেলো হিসেবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় বিশেষ প্রশিক্ষণও নেন। পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন। বিবিসিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এঙপ্রেস–এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডিজিটাল মিডিয়ায় ভূমিকার জন্যও তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ–টু–সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে এশিয়া–প্যাসিফিক, ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার ‘১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবক’ এর একজন হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।











