শাহ আমানত বিমানবন্দরে রেস্ট হাউস ও হেলথ সেন্টার স্থাপন করা হবে

ট্রলি কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের মধ্যেও ৭ মাসে বিদেশে গেছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার লোক

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল বা কারিগরি জটিলতায় পড়া প্রবাসী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দর ক্যাম্পাসেই একটি রেস্ট হাউস এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য একটি হেলথ সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর উপরও জোর দেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রবাসী কর্মীদের সুবিধার্থে একাধিক পদক্ষেপ : আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষ ও প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় দেখা যায় টেকনিক্যাল সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। চট্টগ্রাম শহর এখান থেকে বেশ দূর হওয়ায় যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। এজন্য বিমানবন্দরে এসে প্রবাসীরা যাতে কয়েক ঘণ্টা আরাম করতে পারেন, সেজন্য একটি রেস্ট হাউস তৈরির স্থান নির্বাচনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাইট সিলেক্ট করলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এখানে যদি একটা আমরা রেস্ট হাউসের মতো দিতে পারি, যাতে প্যাসেঞ্জাররা এখানে এই এয়ারপোর্ট ক্যাম্পাসের ভিতর ফিউ আওয়ার্স হয়তো রেস্ট নিলেন। আমরা এই জন্য বলছি ইমিডিয়েট উনারা একটা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সাইট সিলেকশন করলেই আমরা এটা এখানে করব।

মন্ত্রী যাত্রীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে একটি হেলথ সেন্টার স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শহরে যেতে যেহেতু এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে, তাই কোনো প্রবাসী অসুস্থ হয়ে পড়লে যেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সেজন্য বিমানবন্দরে একটি হেলথ সেন্টার করা যায়। এজন্য আমি আজকে নির্দেশ দিয়ে গেছি, উনারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই স্পেসগুলো দেখে আমাদেরকে রিপোর্ট দিলে আমরা এই কাজটা শুরু করব।

নতুন শ্রমবাজার তৈরি ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনা : ইউরোপসহ বিশ্বের নতুন নতুন দেশে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা শুধু মিডল ইস্ট না, ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলোতেও আলোচনা চলছে এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের অনেক ভালো রেসপন্সও আসতেছে। আমি আশা করি আগামী মাস তিনেকের মধ্যে আপনারাও দেখবেন। আমাদের অন্যান্য সেক্টর, যেসব সেক্টরে কখনো আমরা মার্কেটিং করতে পারিনি, ইনশাআল্লাহ আমরা সেসব সেক্টরেও মার্কেটিং করব।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট সত্ত্বেও যুদ্ধকালীন সময়ে ৭ মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার লোক বিদেশে গমন করেছেন। এসময় প্রবাসীদের সুবিধার্থে পুরো রিক্রুটিং প্রক্রিয়াকে অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন প্রবাসী কোন এজেন্সির মাধ্যমে কোথায় যাচ্ছেন, সব তথ্য সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে আপডেট পেয়ে যান, সেই অনলাইন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।

দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর : প্রবাসে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর উপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু মার্কেট (নতুন নতুন শ্রমবাজার) ওপেন করলে হবে না, আমাদেরকে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে পাঠাতে হবে। আমরা বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনের মাধ্যমে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স ও ট্রেনিং সেন্টারগুলোর ব্যবস্থা করছি। এজন্য আমরা সরেজমিনে ফিজিক্যালি ভিজিট করছি। আমরা ১ লাখ লোক পাঠাব বললাম আর পাঠাই দিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে যদি তার চাকরি না হয়, তবে সেটা সমস্যা, এখানে অনিশ্চয়তারও বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু লোক পাঠালেই হবে না, প্রবাসে তাদের চাকরির নিশ্চয়তা ও ডিমান্ড লেটার ভেরিফাই করে ডাটাবেজের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে কর্মী পাঠানো হবে। আমরা চাই যেখান থেকে যে ডিমান্ড আসবে, সেই ডিমান্ড সঠিক কি না তা সঠিকভাবে ভেরিফাই করা হবে। এখান থেকে যিনি যাবেন, তিনি যেন গিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন। সেজন্য আমরা ডাটাবেজ ইনফরমেশন তৈরি করছি, যা আমাদের মিনিস্ট্রি এবং ফরেন এম্বাসিগুলো মেইনটেইন করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাড্ডাকাণ্ড : বিএনপির সংরক্ষিত এমপি মিষ্টির পদত্যাগ
পরবর্তী নিবন্ধস্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী