চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও দেশের অগ্রযাত্রায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করলেই হবে না, নিজের শহর, সমাজ ও দেশের জন্য কী করা যায়, সেই চিন্তাও তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। তোমরাই ভবিষ্যতের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বদানকারী মানুষ। তোমাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসএসসিতে ভালো ফলাফলকারী বারোশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, আজ এতগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীর সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। তোমাদের বয়সে আমিও স্বপ্ন দেখতাম, কীভাবে নিজেকে গড়ে তুলে মানুষের জন্য কাজ করা যায়। ১৯৯১ সালে আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। তখন সারাদেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮টি এবং আসনও ছিল ১২০০ মাত্র। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়েছে। তাই তোমাদেরও জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় মানুষের সেবা করার পাশাপাশি আমি উপলব্ধি করেছি, বৃহত্তর পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও। এ কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আমার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। তোমরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতির বক্তব্যে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিশন ও ভিশন গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা। তিনি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার সহযোগী হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। গাজী কেডি ফাউন্ডেশন বিগত সময়ে যেভাবে শিক্ষা বান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখবে। গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও ইসমিতার পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, দৈনিক দেশ বর্তমানের সম্পাদক জমির উদ্দিন, এমসিইও’র ফাউন্ডার আইমান সাদিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম সরোয়ার আলম, ব্যবসায়ী সাকিব কাদের চৌধুরী ও ডা. সামিউল। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












