পাওনাদারদের টাকা না দিতে অপহরণ ও মুক্তিপণ নাটক

পরে পালানোর পথে মীরসরাইয়ে বাস থেকে উদ্ধার

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

নগরীর এক ব্যবসায়ী নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন। পরে ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার পথে মীরসরাই উপজেলা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ীর নাম সফি উল্লাহ। তিনি নগরীর চকবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী সফি উল্লাহ পুলিশকে জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ না করতে তিনি নিজেই অপহরণ ও মুক্তিপণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে পুলিশের ভাষ্য, পাওনাদারের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল তার।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার নগরীর চকবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহদ্দারহাট যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সফি উল্লাহ। এ ঘটনায় রোববার নগরের পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, জিডির পর পুলিশ নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সফি উল্লাহর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হাটহাজারীর ছাদেকনগর এলাকার একটি মাজারে তাঁর অবস্থান শনাক্ত হয়। সেখানে এক ব্যক্তির সহায়তায় পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালালেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পরে মুঠোফোনের সিম পরিবর্তন করে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন সফি উল্লাহ। এরপর নাজিরহাট কাউন্টার থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসের টিকিট কেটে রওনা হন। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে জোরারগঞ্জে বাসটি থামিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনাও ছিল। এ ঘটনায় তার ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এক পাওনাদার থানায় অভিযোগ করায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে উপস্থিত না থেকে পাওনা টাকা না দিয়ে সফি উল্লাহ আত্মগোপনে যান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমরা একটি দলের অভিনয় দেখতে দেখতে অস্থির
পরবর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু