বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনবার্সনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নতুন করে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকের এনসিপির দলের নাহিদ, হাসনাত, সারজিসরা এক সময় ছাত্রলীগ করত। অনেকে শিবির করত। আমাদের সন্দেহ, তারা যেহেতু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বর্তমানে ১১ দলীয় জোটে আছেন, তাদের সাথে ভারতে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনার সাথে একটা লাইন আছে। বুঝাই যায় জামায়াত–এনসিপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে।
জামায়াত ইসলামীকে অকৃতজ্ঞ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন। জামায়াত এখন সেসব কথা ভুলে গেছে। তারা সংসদে বসে সুন্দর সুন্দর কথা বলে, কিন্তু বাইরে গিয়ে পুরো উল্টো। মাত্র ৬ মাসের একটা সরকারকে পতনের হুমকি দেয়। এরা ভন্ড, এরা মোনাফেক। বিএনপি এদের ভয় পায় না, বিএনপি গত ২০ বছর ধরে গেরিলা ট্রেইনিং নেওয়া দল।
শাহে আলম বলেন, লংমার্চ করে যদি তেল গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে যেত তাহলে বিএনপি সবার আগে লংমার্চ করতো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, এই অঞ্চলে বেহেস্তের কথা বলে ভোট নিয়েছিল। বেহেস্ত দূরের কথা তারা এমন পানি দিয়েছিল, সেই পানির ঠেলায় আমরা অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা বন্যার মধ্যে এসেছিলেন। দেখেছি পাঞ্জাবি খুলেছেন, মাঝে মাঝে গেঞ্জিও খুলেছেন। হাঁটু পানিতে নেমে ছিলেন। এইটুকুই; ফটোশুট করে চলে গেছেন। কিছুই দেয়নি। মাঝে মধ্যে শিশুদের কিছু লজেন্স দিয়েছে। আমরা এই দলের অভিনয় দেখতে দেখতে অস্থির হয়ে গেছি। কিন্তু আপনাদের প্রধানমন্ত্রী অভিনয় ও নাটক করার জন্য এখানে আসেনি। তিনি একশ মানুষকে নতুন ঘর দিয়েছিলেন, দুইশ মানুষকে চাল–ডালসহ ত্রাণ দিয়েছেন। আজকেও তিনি আমাকে কোটি টাকা অনুদান দিতে এখানে পাঠিয়েছেন।
বিডিনিউজ জানায়, আগামী চার বছরে দেশের চার কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে তুলে ধরে শাহে আলম বলেন, চার কোটি পরিবার আগামী চার বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। আমি আরও পরিষ্কার করি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে ঘুষ টুস দেওয়ার দরকার নাই। এই কার্ড সবাই পাবেন পর্যায়ক্রমে। এবং আমার মিসেস, পাপ্পার (বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা) মিসেসও পাবেন। সিরিয়াসলি বললাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী আমাদের শ্রদ্ধেয় ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটিয়ার সংসদ সদস্য মো. এনামুল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি ও পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।











