জেলে পরিবারের যেসব সন্তান নিয়মিত স্কুলে যাবে, তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, জেলে জনগোষ্ঠীর জীবনমানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামের কাটগড়ে জেলেদের নিয়ে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় গতকাল জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের ভাগ্য, আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চাই, একমাত্র যে মাধ্যম আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, সেটি হচ্ছে শিক্ষা।
অন্যান্য অনেক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে পরিবর্তন এলেও জেলে জনগোষ্ঠী এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম একইভাবে জীবনযাপন না করে জেলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও দক্ষতায় এগিয়ে নিতে হবে।
জেলে পরিবারের শিশুদের জন্য স্বপ্নীল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
স্কুলটিতে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ, দরজা–জানালাসহ অন্যান্য উপকরণ দ্রুত সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল দাঁড় করালাম, কিন্তু সেখানে আপনার সন্তানরা যদি না যায়, তাহলে কিন্তু হলো না। আপনাদের সন্তানদের পাঠাতে হবে।
এরপর প্রণোদনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনাদের যাদের সন্তান স্কুলে পড়ালেখা করবে, তাদের জন্য আমরা ইনশাআল্লাহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার সন্তানটি নিয়মিত স্কুলে যায়।
মাছ ধরায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে উল্লেখ করে জেলে জনগোষ্ঠীকেও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর আহ্বান জানান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জেলে পরিবারের সন্তানেরা ভবিষ্যতে একই পেশায় থাকলেও যেন আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আরও দক্ষ ও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রস্তুত করতে হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে–সরকার ও প্রশাসন এ বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কোস্ট গার্ডের লে. কমান্ডার আবদুস সালাম, নৌ–বাহিনীর লে. ফাহিম, নৌ–পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি (পতেঙ্গা) শাহীদ ইশরাক, পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পারভেজ আলি, পতেঙ্গা মুসলিমাবাদ জেলে সভাপতি নির্মল দাস, উপকূলীয় মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সমীরন দাস। সঞ্চালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন চৌধুরী।











