রেওয়াজ হচ্ছে, মঞ্চে আসন থাকবে বিজয়ীর। পরাজিত, পতিত কিংবা তাদের তল্পিবাহকদের জায়গা দর্শকসারির পেছনে, লোকচক্ষুর আড়ালে, মঞ্চে নয়। রাঙ্গুনীয়ার মরিয়ম নগরে এক জানাজায় দেখা যায় উল্টো দৃশ্য। সেখানে মঞ্চে যিনি ছিলেন তাকে মানুষ দেখেছে হাছান মাহমুদের সাথে, পাশে কিংবা মঞ্চে। ডামি সংসদ নির্বাচনে তিনিই ছিলেন হাছান মাহমুদের ডান হাত। রোদে ঠায় দাঁড়িয়ে বিরক্তিকর বক্তৃতা শোনা পীড়াদায়ক, আমার মত হার্টের রোগীর জন্য বিপজ্জনক। না, তিনি কোনো মিথ্যা বয়ান দেন নি। কিন্তু যা করেছেন সেটা ছিলো মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর। সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সত্যকে করে তোলেন প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি স্বঘোষিত দানবীর, আপাদমস্তক আদম–বেপারি, মানুষের নিষ্পাপ স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা করেন, রাতারাতি হয়েছেন জিরো থেকে হিরো, একেবারে আঙুল ফুলে কলা গাছ। তার নাটকীয় বক্তৃতা শেষে মঞ্চে আসলেন অঅরেক নেতা। তার বক্তৃতা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে আমার ছন্দপতন ঘটে। চিৎকার করে আমি সঞ্চালককে জানাই ‘এসেছি জানাজা পড়তে, নাটক দেখতে নয়।’ বক্তৃতারত হিরোর কানেও বার্তাটা যায়। তৎক্ষণাৎ তিনি বক্তৃতা থামিয়ে উপস্থিত হাজার–হাজার মানুষকে বন্দি–দশা মুক্ত করেন।
সেই ট্রেডিশন সমানেই চলছে। বিজয় দিবসে উপজেলা সদরে সরকারি সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন যথারীতি অনুপস্থিত। শহীদ, প্রয়াত ও বয়সের ভারে ন্যূজ্ব্ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান কিংবা স্বজনদের অনেককেই দাওয়াত দেয়া হয়নি উল্লেখিত অনুষ্ঠানে। এভাবেই চলছে।
জনপ্রশাসন ও নানা অঙ্গনে সক্রিয় পূর্বাপর স্বৈরাচারের দোসরের রাজনীতির ভেতরকার অন্তঃসারশূন্যতার অধিকতর উন্মোচন এরই মধ্যে প্রকাশ পায় আমাদের রাঙ্গুনিয়ায়। অনেক ক্ষেত্রে তারাই হচ্ছেন রাজা কিংবা মহারাজা। তাদের আশ্রয় কিংবা প্রশ্রয়ে ধান্ধাবাজরা নব–রূপে আরো কত কাল তাদের উলঙ্গ নৃত্য পরিবেশন করবেন–মাঠ মাতাবেন, সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন।












