বেশ কিছুদিন ধরেই সমালোচনার তির ধেয়ে আসছিল চারপাশ থেকে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতায় নিগার সুলতানা জ্যোতিকে কাঠগড়ায় তুলছিলেন অনেকে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠছিল টুকটাক। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেললেন তিনি নিজেই। এশিয়ান গেমসের পর টি–টোয়েন্টিতে আর অধিনায়ক থাকতে চান না এই কিপার–ব্যাটার। আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বিসিবি নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি এবং আমাকে চিঠি দিয়ে জ্যোতি জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের পর টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান।’
জ্যোতি যখন অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, এশিয়ান গেমস খেলতে বাংলাদেশ দল তখন আছে জাপানে। স্বর্ণ পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আসরটিতে আগামী শুক্রবার প্রথম কোয়ার্টার–ফাইনালে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিগারের দল। রফিকুল আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাবেন তিনি। এশিয়ান গেমসের পর আমরা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।’ নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান জানান এশিয়ান গেমসের মতো বড় একটি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির আগ মুর্হূতে জ্যোতির এমন সিদ্বান্ত তাকে বিব্রত করেছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক রফিকুল বলেন, ‘তার এই ঘোষণায় আমি কিছুটা বিব্রত। এশিয়ান গেমস আমাদের জন্য একটি বড় আসর। আমরা চাই খেলোয়াড়রা কোন মানসিক অস্থিরতা ছাড়াই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। তার এই ঘোষণার সময়টা উপযুক্ত নয়। গেমস শেষ হবার পর তিনি এটি করতে পারতেন।’ ২০২১ সালে সব ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাবার পর বাংলাদেশ দলকে বেশি কিছু স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছেন জ্যোতি। তবে সমপ্রতি দলের বাজে পারফরমেন্স, বিশেষ করে সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে দলের বাদ পড়া জ্যোতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। রফিকুল জানান, যেহেতু এশিয়ান গেমস আসন্ন, এজন্য দলের পারফরমেন্স নিয়ে এখন কোনো আলোচনা করতে তারা আগ্রহী নন। তিনি বলেন, ‘সামনে একটি বড় টুর্নামেন্ট আছে। তাই আমার মনে হয় না, দলের পারফরমেন্স নিয়ে আলোচনার জন্য এটি সঠিক সময়। অতীতে যাই হোক না কেন, আমরা জানি জ্যোতিই দেশ সেরা ব্যাটার। আমি চাই খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকুক এবং এশিয়ান গেমসে নিজেদের সেরা পারফরমেন্স উজার করে দেবে।’
২০২২ সালে টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জ্যোতি। এখন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি ৮০ টি–টোয়েন্টি ম্যাচে। নেতৃত্বের রেকর্ড গড়েছেন সালমা খাতুনের ৬৫ ম্যাচের অধিনায়কত্বকে ছাড়িয়ে। জ্যোতির নেতৃত্বে ৩২ জয়ও বাংলাদেশের রেকর্ড। তার নেতৃত্বে দল হেরেছে ৪৭ ম্যাচে। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন তিনি ২০২১ সালে। এই সংস্করণে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৭ ম্যাচে। সেখানে জয় আছে ১৫টি, হার ২৬টি।












