প্যাকেটে সিলেটের ঠিকানা, মোড়কজাত হচ্ছে চাক্তাইয়ে

নামী ব্র্যান্ডের আদলে প্যাকেজিং, জরিমানা

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

প্যাকেটের গায়ে চকচক করছে চাবাগানঘেরা সিলেটের ঠিকানা। কিন্তু ভেতরের আসল গল্প ভিন্ন। চা মোড়কজাত করা হচ্ছিল নগরের মধ্যম চাক্তাইয়ের ‘নিজাম টি স্টল’র গুদামে। আবার প্যাকেটের ডিজাইনও করা হয়েছে একটি নামি ব্রান্ডের মোড়কের আদলে। যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সাধারণ মানুষের সাথে ‘প্রতারণা’ করে এলেও তা ধরা পড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে। এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল মোড়কে নিম্নমানের চা পাতা প্যাকেজিং করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার ও বিএসটিআই অনুমোদন না থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয় নিজাম টি স্টলকে। একই সাথে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গুদাম ও প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ (সিলগালা) রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। জানা গেছে, নিজাম টি স্টলে উপস্থিত হয়ে ভোক্তার টিম চা কোথায় প্যাকেট করা হয় তা জানতে চান। পরে নিজাম টি স্টলের কর্মচারিরা গুদামে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় প্রায় এক ঘণ্টা গুদামে নেয়ার নামে ঘুরিয়েছে। গুদামে পৌঁছানোর পর চাবি নেই বলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখা হয়। মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল ব্রান্ডের চা পাতা নকল করছে। এসে দেখলাম অনেকাংশে নকল হচ্ছে। এখানে প্যাকেটজাত করলেও ঠিকানা দেয়া হচ্ছে সিলেটের। আমরা বেশ কিছু প্যাকেট জব্দ করেছি।

তিনি বলেন, আরেকটা চা পাতার প্যাকেটে উৎপাদন ও মোড়কজাত পাহাড়তলী উল্লেখ করা হয়। অথচ সেটাও এখানে মোড়কজাত করা হচ্ছে। তারা আমাদের এক ঘণ্টা ঘুরিয়েছে। এরপর আমরা গুদামে গেলাম। সেখানে আলামত পাইনি। তবে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমাদের ঘুরানো এক ঘণ্টায় আলামত সরিয়ে ফেলেছে। দেখলাম তারা পা দিয়ে মাড়িয়ে চা পাতা প্যাকেট করছে, যা অস্বাস্থ্যকর।

এদিকে চাক্তাই এর আগে নতুন ব্রিজ এলাকায় খাদ্য পণ্য ও বেকারি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবহদ্দারহাটে দুই শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ
পরবর্তী নিবন্ধআদালত সংশ্লিষ্ট কেউ নন, তবুও বিবাহ রেজিস্ট্রি, জমির দলিল, খতিয়ান ও নামজারির কাজ করেন তিনি