সন্তান পিতামাতার ঐশ্বরিক উপহার। একজন নারীর সন্তান গর্ভে ধারণ থেকে শুরু হয় মা হওয়ার প্রস্তুতি। সন্তান গর্ভে থাকাকালীন প্রতিটি নারীর যে অভূতপূর্ব আনন্দ অনুভূতির অনুভব হয় তার বহিঃপ্রকাশ করা কঠিন। সন্তান গর্ভে ধারণ করার সময় নারীর প্রতিটি মুহূর্ত যে অযাচিত আনন্দ ও বেদনা উপভোগ করে তা কেবল সৃষ্টিকর্তা জানেন। সন্তানের পিতা হয়তো নারীর পাশে থেকে নারীটির বেদনা অনুমান করতে পারেন তবে অনুভব করা অসম্ভব। এই জন্যই মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত বলা হয়। তবে আমি মনে করি এটা কেবল একটা প্রবাদ মাত্র। সন্তান প্রতিপালনের জন্য প্রথমত মৌলিক প্রয়োজনগুলোর অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধ এবং সৎ চরিত্রের শিক্ষা দেয়া এবং সন্তানকে অন্যায় ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সঠিক ও সুন্দর জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা প্রতিটি মা–বাবার জন্য এই পৃথিবীতে একটা চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান সময় মানুষের জন্য এতোই প্রতিকূল যে সহজ কোন কিছু সহজে হতে চায় না। হাজার সংগ্রাম করে তিলতিল করে গড়ে তোলা সন্তান সব সময় সঠিক পথে পরিচালিত করা যায় না। প্রতিটি সন্তানকে সঠিক মূল্যবোধে মানুষ করার আপ্রাণ চেষ্টা যখন বিফলে যায় তখন মা–বাবা পৃথিবীতে নরক যন্ত্রণা ভোগ করে। আর যেসব সন্তান সঠিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারে তখন একটি পরিবার নয় পুরো সমাজ বা জাতি উপকৃত হয়। পরিশেষে– একজন মা হিসেবে বলতে চাই, প্রতিটি মা–বাবা সার্থক হোক, সন্তান সঠিক মূল্যবোধে মানুষ হোক। সন্তানেরা মা–বাবার জীবনে আশীর্বাদ হিসেবে আসীন হোক।












