আজাদীর জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা

গৌতম কানুনগো | শনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

আজাদী’ শব্দের অর্থ মুক্তি, আর মুক্তি বরাবরই সৃজনশীলতার পথকে প্রসারিত করে, ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদী জন্ম নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে পাঠকের ভালোবাসায় আজ ৬৬তম বর্ষ পেরিয়ে ৬৭তম বর্ষে পদার্পণ করলো। ১৯৬০ সালে কোহিনূর প্রেসের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক যখন দৈনিক আজাদী প্রকাশের উদ্যোগ নেন তখন ভাগিনা অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকেও সাথে নেন তিনি। দুই বছর চলার পর হঠাৎ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মৃত্যুবরণ করলে ভাগিনা অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ দৈনিক আজাদীর হাল ধরেন, সেই যে হাল ধরেছিলেন আমৃত্যু আর ছাড়েন নি, একটানা ৪০ বছর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিংবদন্তী সাংবাদিক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ‘দৈনিক আজাদী’ পত্রিকা আমার পড়া চাই। এইদৈনিক আজাদী পত্রিকার মাধ্যমে আমার লেখালেখি শুরু। কবি, প্রাবন্ধিক, লেখক সৃষ্টিতে পত্রিকাটির ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন সময়োপযোগী ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে দৈনিক আজাদী আজ কোটি জনগণের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। লেখক তৈরী করার কারিগর ‘দৈনিক আজাদী’। দৈনিক আজাদী আজ গণমানুষের নির্ভরতার প্রতীক। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের প্রতি মুহূর্তের সংবাদগুলো সংগ্রহ করার এবং সেই সংবাদগুলো পত্রিকায় প্রকাশের ক্ষেত্রে আজাদী পত্রিকার বিকল্প নেই। আজাদী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা হলেও তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে বর্তমানে অনলাইনে ও ইপেপার ভার্সনে পুরো বিশ্বের পাঠকেরা নিয়মিত পত্রিকাটি পড়তে পারছেন। আজাদী হয়ে উঠেছে প্রতিদিনকার ভোরবেলার অন্যতম অনুষঙ্গ। আজাদীর পাতায় চোখ রাখলেই এক নজরে দেশের এবং বিদেশের খবরাখবর জানতে পারিতাই আজাদী আমার ভালোবাসা। দৈনিক আজাদী অর্জন করেছে ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার২০১৯’। দৈনিক আজাদী বাংলাদেশের একমাত্র পত্রিকা যে পত্রিকার তিনজন নক্ষত্র রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ তিন ক্যাটাগরির পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পান, মরণোত্তর, ২০২২ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান আজাদীর বর্তমান সম্পাদক এম.এ মালেক। তার আগে ২০১৬ সালে কবি ও শিশুসাহিত্যিক, এবং আজাদীর বর্তমান সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফ শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পানএই পুরস্কারগুলো আজাদীর জন্য মাইলফলক এবং চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রেরণার উৎস। তাই বিশেষজ্ঞরা যথার্থই বলেছেন– ‘আজাদী আজ শুধু একটি সংবাদপত্রই নয়এটি এখন চট্টগ্রামের আয়না হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’ সরকারি বেসরকারি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সুন্দর উপস্থাপনায় আজাদীর ভূমিকা প্রশংসনীয়।

বর্তমান সম্পাদক এম. এ মালেকের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমে আজাদী এখন শীর্যস্থানে অবস্থান করছে। ৬৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আজাদী পত্রিকার মাননীয় সম্পাদক এম. . মালেক, পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক সহ সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জানাই অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা, জনপ্রিয়তার শীর্ষে পত্রিকাটি আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবেএটাই প্রত্যাশা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজাদীর পথচলা
পরবর্তী নিবন্ধআজাদী : যে পত্রিকার পাতায় চিনেছিলাম বর্ণ