ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা ময়দানে গতকাল শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ পরবর্তী মাহফিলে দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফের সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসূল (দ.) পীর আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ বলেন, সিলিসিলায়ে কাদেরীয়া আলিয়া পুরো দুনিয়ায় বিস্তৃত। আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবাদত আর মানবতার কল্যাণের জন্য। কিন্তু তাগুতি শক্তি মানুষকে সঠিক পথ ও মত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সিলসিলা ও তরিকত মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। তিনি পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু মানুষকে কল্যাণের পথে নির্বাচিত করেছেন, তারা আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত, তারা আল্লাহর ফজল ও করম দ্বারা ধন্য। তারাই সিলসিলার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন। আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই নিয়ামতপ্রাপ্ত মহান অলি, যিনি এ বাংলায় শুভাগমন করে আমাদের গাউসুল আজম দস্তগীর রহমাতুল্লাহি আলাইহির সিলসিলা দিয়েছেন। এ সিলসিলার মাধ্যমে আমরা তাওবা করার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহর করুণালাভে ধন্য হচ্ছি। তিনি স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আমরা সিলসিলায় দাখিল হওয়ার সময় যে তাওবা করেছি এবং আল্লাহর পথ ও মতে চলার আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার যে প্রতিজ্ঞা করেছি তা আমাদের অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে, না হয় আমাদের ক্ষতি হব। আল্লাহর করম ও ফজল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী পরকালীন জীবন দীর্ঘ ও কঠিন। এ দীর্ঘ পথকে অতিক্রম করতে হলে আল্লাহ–রাসূলের নির্দেশিত পথ ও মতে চলতে হবে। এবাদত বন্দেগি করতে হবে। তবে সব কাজের মূল হুব্বে রাসুল (দ.)। আল্লাহর হাবীব রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মুহাব্বত অন্তরে ধারণ করতে হবে। পরিশুদ্ধ জীবন গঠনে আউলিয়ায়ে কেরাম প্রদত্ত সিলসিলা অনুসরণ করতে হবে। তিনি সকল ভাইদের শান্তি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
জুমার নামাজ ও পরবর্তী মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসূল, সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মাজিআ) এবং সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ্ (মাজিআ)। আরও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দীন (শাকের), ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, মাহমুদ নেওয়াজ, আনজুমান সদস্য শাহাজাদ ইবনে দিদার, আনোয়ারুল হক, তৈয়বুর রহমান, আবদুল হামিদ, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আলী, শহীদ উল্লাহ, মিজানুর রহমান, আবদুল মালেক বুলবুল, নূর মোহাম্মদ কন্ট্রাক্টর, সাদেক হোসেন পাপ্পু, প্রফেসর জসিম উদ্দীন, আবদুল হাই মাসুম, মাহবুবুল আলম, ড. সাইফুল আলম, তৌহিদুল করিম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মারুফুর রহমান, অ্যাড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, মাহবুবুল হক খান, উপদেষ্টা মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন, আনজুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সচিব আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন প্রমুখ।
দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদের খতিব আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবাইর রজভীর সঞ্চালনায় জুমার পূর্বে আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মাবুদ, হাফেজ মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ক্বারী মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
পীর সাবির শাহ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ এবং অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। নবীজির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই একটি কল্যাণময় সমাজ গড়ে উঠবে। হুজুর কেবলা বক্তব্যের আগে উপস্থিত হাজারো মুসল্লিদের সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়ার বায়াতের সবক দেন। পরে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করেন। এর আগে পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মাজিআ) জুমার নামাজের খেতাবত ও ইমামতি করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












