নিরাপদ নৌ–চলাচল নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী নদী ও বহির্নোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাছ ধরার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ ও অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বন্দরের দুটি জাহাজ ‘বিএলভি লুসাই’ ও ‘বিএলভি আলী’ অংশ নেয়। অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সার্বিক সহযোগিতা দেয়।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, কর্ণফুলী নদীর মূল শিপিং চ্যানেল ও বন্দরের বহির্নোঙরের নেভিগেশনাল রুটে অবৈধভাবে বিপজ্জনক অবস্থানে মাছ ধরার জাল স্থাপন কর হয়েছিল। এসব জাল বড় জাহাজের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি নৌ–চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছিল। অভিযানকালে শিপিং চ্যানেল ও নেভিগেশনাল রুটের বিভিন্ন এলাকায় এসব অবৈধ জাল শনাক্ত করা হয়। পরে জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ ও অপসারণ করা হয়। এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নেভিগেশনাল স্পেস স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযানকালে নেভিগেশনাল রুটে অবস্থানরত ফিশিং বোটগুলোকে চ্যানেল এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নৌ–চলাচল রুট কিংবা শিপিং চ্যানেলে জাল স্থাপন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মাঝিমাল্লাদের সতর্ক করা হয়।
দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশনাল চ্যানেল নিরাপদ ও সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বন্দর সচিব জানান, বন্দরের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য জাহাজ চলাচলের পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।
কর্ণফুলী নদী ও বন্দরের বর্হিনোঙরে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং নৌ–চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে নির্ধারিত নৌ–চলাচল রুট মেনে চলা এবং জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে–এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে সব নৌযান, মাঝিমাল্লা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।












