প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ফটিকছড়ি সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে বইছে উৎসবের আমেজ। আশার আলো দেখছেন সর্বস্তরের মানুষ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়া অনেক এবং পর্যায়ক্রমে সব দাবিই তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ফটিকছড়িতে ভালো মানের কোনো মহিলা কলেজ নেই। এত বড় একটি উপজেলায় মাত্র একটি সরকারি কলেজ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আমাদের আরো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করতে হবে এবং তরুণদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়িয়ে দিতে হবে। ফটিকছড়িতে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস থাকা সত্ত্বেও ফটিকছড়িবাসী গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। আমাদের গ্যাস সবার আগে আমাদের দিতে হবে। এছাড়া ফটিকছড়িতে বিপুল পরিমাণ খাস জমি পড়ে রয়েছে, যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলা সম্ভব। এই দাবিগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।
প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে আজ দুপুরে ফটিকছড়ি পেলাগাজি সিঅ্যান্ডবি মাঠে আসার পর সেখান থেকে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেও মুহিব্বুল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হবে জানা গেছে। দাবিগুলোর মধ্যে আছে ফটিকছড়িতে একটি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণ, চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা এবং বাবুনগর মাদ্রাসা সড়ক প্রশস্তকরণ।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার আন্দোলনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত খুনি, নির্দেশদাতা ও হুকুমের আসামিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে। একই সাথে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন যেন পাস না করা হয়, সেই দাবিও আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাব।











