সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে গুম আইনের খসড়া অনুমোদন

| মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ

গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রেখে আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আসামির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। খবর বিডিনিউজের।

প্রস্তাবিত এ আইনে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ না থাকলে সরকার সেই ক্ষতিপূরণ দেবে। প্রস্তাবিত আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সেরে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিনঅযোগ্য ও আপসঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅহেতুক প্রকল্প নয়, পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধবিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন : ফখরুল