হাসতে হাসতে বাসা থেকে গেল আমার ছেলে, আর ফিরেনি

অপ্রতিমের বাবা

| রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

হাসতে হাসতে বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে গিয়ে ছেলে আর ফিরে আসেনি বলে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন কুমিল্লায় হত্যার শিকার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। গতকাল বিকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার বাসায় বসে সাংবাদিকদের কাছে শুক্রবার অপ্রতিমের জুমার নামাজে যাওয়া, বাসায় ফিরে খাবার খাওয়া, তার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া, তার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি আর সবশেষ লাশ উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তিনি। এদিন দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর বিডিনিউজের।

বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজে গেল। আমরা বাসায় তার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম খাবারের জন্য। ও এলে আমি ওকে খাইয়ে দেই। সাধারণত ওর মা খাওয়ায় দেয় বা আমরা তিনজন মিলে একসঙ্গে। এই পাঞ্জাবিটা পরা ছিল। খাওয়ার পরে আমি বললাম যে, বাবা তুমি আজকে বাইরে যেও না, আমরা মুভি দেখি। মুভি দেখার পরে আমি তোমারে একটা ভালো ট্রিট দিব। তখন ও বলল, না আব্বু, আমি একটু বাইরে যাব। আজকে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু ছবি উঠাব। তখন আমি বললাম, তোমার আম্মুকে বলে যাও। তো ও খুশি মনে দরজাটা খুলে ‘আব্বু গেলাম’, ‘আম্মু গেলাম’ বলে চলে গেল। আর ফিরে আসেনি।

শাহরিয়ার বলেন, ছেলে ফিরে না আসায় উদ্বেগ হচ্ছিল, কিন্তু আশা করছিলাম, ছেলে ফিরে আসবে। রাত ৯টায়ও ছেলে ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার থানায় যায় এবং থানায় জিডি করেন। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আশ্বাস দিচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকছাত্ররাও আশপাশের শালবনসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। এর মধ্যে একজন রিকশায় বসে আইসক্রিম খেতে দেখছে, কেউ আবার তাকে রিকশায় করে খানবাড়ির দিকে যেতে দেখেছে।

তিনি বলেন, আমার একটা ছেলে। বাসায় আমরা তিনজন মানুষ। সবাই বন্ধুর মতো ছিলাম। ওর দুইজন হাউস টিউটর। ও বাসার বাইরে আগে একটু বেশি বেশি যেত। হাউস টিউটর রাখার পর চারপাঁচ মাস যাবত একটু বেশি বাসায় থাকত।

তার ধারণা, অপ্রতিম হয়তো বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে গেছে। কিন্তু বন্ধুরা হয়তো তাকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। ওরা হয়তো বলছে যে, তুমি তো অনেকদিন আসো না। আসো, একসাথে ছবি তুলব। এটা আমার অনুমান থেকে বলছি। ওইভাবেই তো আমার ছেলে গেছে। পরে ওরে ওইভাবে আমাদের দেখা লাগল। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে তো আমি পাব না। এটার বিচার চাই। বিচার চাই যেন পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরিকশা আটকে ধারালো ছোরার মুখে ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল
পরবর্তী নিবন্ধমুছে গেল অপ্রতিমের হাসি