বাড়ি ভাড়া কোথায় কত?

| রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেতন বাড়িয়ে সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এখন যে প্রশ্নটি সামনে আসছে, মূল বেতনের পাশাপাশি কোন এলাকায় কত বাড়ি ভাড়া পাবেন তারা? বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের জারি করা এ প্রজ্ঞাপন গতকাল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পান সরকারি চাকুরেরা। তবে এ হারে কারো বাড়িভাড়া বাবদ ৫ হাজার ৬০০ টাকার নিচে হলে তারা ন্যূনতম এ পরিমাণ ভাতা পান বাড়িভাড়া হিসেবে। এছাড়া ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পান তারা। তবে এর পরিমাণ ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা হয়ে থাকে। খবর বিডিনিউজের।

মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কর্মীর তারা ৫৫ শতাংশ হারে বা ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে বা ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া পান সরকারি চাকুরেরা।

সরকারের নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন অনুয়ায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চাকরি করা গ্রেড২০এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১৬এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকুরেরা এখন থেকে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।

গ্রেড১৫এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১০এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেডএর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা পাবেন ৪৫ শতাংশ। আর গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১ ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন বলে তুলে ধরা হয় প্রজ্ঞাপনে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। এর মধ্যে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন এবং ১০২০তম গ্রেডের কর্মকর্তাকর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০২০তম গ্রেডের কর্মকর্তাকর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন।

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। আর মূল বেতনের সঙ্গে যেসব ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারি চাকুরেরা, সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর বাড়িভাড়া মিলবে ওই সময় থেকেই।

অন্য এলাকায় কত শতাংশ : খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কঙবাজার পৌর এলাকার এলাকায় গ্রেড২০এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১৬এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকুরেরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।

একই এলাকায় গ্রেড১৫এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১০এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা পাবেন ৪০ শতাংশ, গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেডএর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ এবং গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১ ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মীরা মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অর্থাৎ এসব এলাকায় তুলনামূলক কম বাড়িভাড়া পাবেন সরকারি কর্মীরা।

এসব এলাকার বাইরে অন্যান্য এলাকায় চাকরিরত গ্রেড২০এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১৬এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। গ্রেড১৫এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১০এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ হারে।

এছাড়া গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেডএর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়ারা ৩০ শতাংশ এবং গ্রেডএর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড১ ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মীরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন বলে তুলে ধরা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। অর্থাৎ এসব এলাকায় একজন কর্মীর নিয়োগ বা পদায়ন হলে তাদের বাড়িভাড়া বাবদ ভাতা মিলবে সবচেয়ে কম।

আরো যেসব ভাতা : সরকারি চাকুরেরা বর্তমানের মতো চিকিৎসা পাবেন। এর মধ্যে ৫০ বছর পর্যন্ত কর্মীরা পাবেন ৩ হাজার টাকা করে। ৫০ বছর একদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটি বা পিএলআর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা করে পাবেন।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছর একদিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছর একদিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৭ হাজার টাকা এবং ৭০ বছর একদিন থেকে তদুর্ধ্ব ৭ হাজার টাকা করে পাবেন।

এর বাইরে একজন কর্মী বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করে, বছরে দুইবার মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা (যেসব প্রতিষ্ঠান লাঞ্চ প্রদান করে, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না), শিক্ষা সহায়ক ভাতা হিসেবে প্রথম সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা হারে এবং অনধিক দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে যাতায়াত ভাতার জন্য ৬০০ টাকা করে পাবেন। মোবাইল ভাতা পঞ্চম গ্রেড থেকে তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা করে পাবেন। এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে মিলবে; অনধিক দুই সন্তানের জন্য এ ভাতা দেবে সরকার। এমন নানাবিধ সুবিধা দেওয়া হবে নতুন বেতন কাঠামোয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপেনশনের নতুন ভাতা বাস্তবায়িত হবে কয়েক ধাপে
পরবর্তী নিবন্ধএ বছরের জুলাই থেকে বাড়তি বেতন, প্রজ্ঞাপন জারি