যেখানে বেশি প্রস্তুতি দরকার সেখানে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টানা বৃষ্টিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুশীলন করতে না পারায় সফরের আগে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলের লক্ষ্য যে বদলায়নি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। শান্ত জানান, বৃষ্টির কারণে দেশে অনুশীলন পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশে প্রস্তুতিটা ঠিকমতো হয়নি। যতটুকু সম্ভব হয়েছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। গ্রানাইটের ওপর বোলিং মেশিনের সাহায্যে প্র্যাকটিস হয়েছে। প্রস্তুতির জায়গায় কিছুটা ঘাটতি ছিল এবার।’ বাংলাদেশের অনুশীলন ব্যাহত হওয়ায় ক্রিকেটারদের বিকল্প ব্যবস্থায় প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। মাঠে পুরোপুরি অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় গ্রানাইটের ওপর বোলিং মেশিন ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে প্রস্তুতি সারতে হয়েছে দলকে। তবে প্রস্তুতির এই সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত হিসেবে দেখতে রাজি নন শান্ত। তার মতে, ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই চিন্তা না করে নিজেদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং ভালো ক্রিকেট খেলাই দলের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা গত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি ম্যাচ খেলি এটা ভেবে যে কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। ফলাফল বা আউটকাম নিয়ে চিন্তা না করে আমাদের প্রসেসটা কী এবং কোথায় ল্যাকিংস আছে তা নিয়ে কাজ করি। এই সিরিজেও নতুন কিছু থাকবে না, লক্ষ্য থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলা এবং প্রসেস ঠিক রাখা।’ অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে একের পর এক ইনজুরির ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ দল। স্কোয়াডে নেই নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা। এরপরও বর্তমান দল নিয়েই আশাবাদী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, এই দলই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে সক্ষম। সফরের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ইনজুরিতে ছিটকে পড়া ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘ইনজুরির বিষয়টা আসলে আমাদের কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। যে কোনো সময় যে কোনো খেলোয়াড় ইনজুরড হতে পারে। তবে আমার মনে হয় যে দলটা আমাদের অস্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছে, এই দলের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। কোন খেলোয়াড় থাকলে ভালো হতো বা আরও বেটার হতো, এগুলো নিয়ে চিন্তা করাটা এখন যৌক্তিক হবে না। আমার মনে হয় কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এই দলটা নিয়ে এবং দলের ওপর কতটুকু বিশ্বাস রাখতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, যা আমার আছে।’ শান্ত আরও যোগ করে বলেন, ‘নাহিদ রানা, শরিফুল বা লিটন দাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে যারা দলে আছে তারাও অনেক বছর ধরে খেলছে। যারা সুযোগ পেয়েছে তাদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ ভালো করার। অধিনায়ক হিসেবে সবসময় সেরা খেলোয়াড়দের পাব এটা আশা করা ঠিক হবে না। যারা সুযোগ পাবে তাদের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে।’ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পেস বোলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে জানিয়ে শান্ত বলেন, দলের বর্তমান বোলিং আক্রমণ ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে যে কন্ডিশন থাকে, সেখানে অবশ্যই একই প্রত্যাশা আছে যে তারা ২০ উইকেট নিয়ে দেবে। পাশাপাশি দুইজন ভালো অভিজ্ঞ স্পিনারও আছে, তারা পেস বোলারদের সাহায্য করবে। স্কোয়াডে যে পেস বোলাররা আছে তারা সক্ষম এবং মুশফিক ছাড়া সবাই অভিজ্ঞ, অনেক বছর ধরে খেলছে। তারা যদি তাদের সেরা বোলিংটা করতে পারে, অবশ্যই ২০ উইকেট নেওয়া সম্ভব।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি ধারণা না থাকলেও সেখানে গিয়ে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্ত বলেন, ‘কন্ডিশনটা আসলে এত দূর থেকে ধারণা করা কঠিন। আমরা শেষ কবে গিয়েছি ঠিক মনে নেই, সম্ভবত ২৩ বছর আগে। কন্ডিশনটা ওখানে যাওয়ার পরেই বোঝার চেষ্টা করব। কন্ডিশন যেমনই হোক, খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’












