আসামিকে বাঁচাতে চাচ্ছেন বাদী নিজেই, আদালতে নারাজি পিটিশন

তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ, নেপথ্যে ‘সমঝোতা’র গুঞ্জন

হাবীবুর রহমান | বৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

নগরীর কোতোয়ালী থানার একটি দাঙ্গাহামলা মামলার আসামি হাসমত আলী। তদন্তেও মিলেছে তার সম্পৃক্ততা। সেই অনুযায়ী চার্জশিটেও তিনি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এমন অবস্থায় বাদী সন্তুষ্ট থাকার কথা; কিন্তু তিনি এখন নাখোশ। উল্টো আসামি হাসমত আলীকে এখন মামলা থেকে বাঁচাতে চাচ্ছেন বাদী নিজেই। নারাজি পিটিশন দাখিল করেছেন আদালতে। এ ঘটনায় নেপথ্যে উক্ত আসামির সাথে বাদীর ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলে কড়া গুঞ্জন উঠেছে।

আদালত সূত্র জানায়, দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট কর্ণফুলীর বাসিন্দা হাসমত আলীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন এস এম আব্দুল্লাহ হারুন প্রকাশ চুকন। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, এস এম আজিজ চৌধুরী, ইমাম হোসেন প্রকাশ বিশাল, জসিম উদ্দিন, আরিফ প্রকাশ বাশেদ, সাবিল আহম্মদ সাব্বির, সোহরাব হোসেন, ইয়াছিন এরফান, মাহফুজুল ইসলাম মিরাজ, মো. ছাবের ও মো. সওকত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে সাবিল আহম্মদ সাব্বির ও মো. সওকত বাদে এজাহারভুক্ত বাকি ৯ জন এবং নতুন ২১ জনসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পুলিশের এই তদন্তে হাসমত আলীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয় এবং চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপরেই রহস্যজনকভাবে সুর পাল্টে ফেলেন বাদী চুকন। গত ১০ মে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করে তিনি দাবি করেন, হাসমত আলী নামের ওই ব্যক্তিকে তিনি এজহারে রাখেননি এবং কীভাবে তার নাম সেখানে এলো তা তার জানা নেই! অথচ মামলার মূল এজাহারপত্রে হাসমত আলীর নাম পরিষ্কারভাবে রয়েছে এবং তদন্তে পুলিশ তার সম্পৃক্ততাও পেয়েছে। বাদীর এমন রহস্যজনক ও স্ববিরোধী আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী জিয়া হাবীব আহসান। তিনি বলেন, ‘এজাহারে নাম তো বাদী নিজেই দিয়েছেন। তদন্তেও তার সম্পৃক্ততা মিলেছে। সুতরাং এজাহারভুক্ত আসামিকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বাদীর আপত্তি থাকার তো কোনো কারণ নেই। এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, হাসমত আলীর সাথে বাদীর কোনো গোপন সমঝোতা বা আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যার কারণে বাদী এখন তাকে চার্জশিট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

মামলার নথি ঘেঁটেও বাদীর এমন পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ মিলেছে। এর আগেও এজাহারভুক্ত আসামি এস এম আজিজ চৌধুরী ও তার ছেলে ইমাম হোসেন প্রকাশ বিশালের নাম ভুলবশত এজাহারে এসেছে দাবি করে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বাদী চুকন, যদিও আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। এমনকি আসামি বিশালের জামিনেও কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন বাদী।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘বাদী নারাজি পিটিশনে কী বলেছেন সেটি আমার বিষয় নয়। এজাহারে নাম থাকা এবং তদন্তে অপরাধের সত্যতা ও সঠিক নামঠিকানা পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ীই হাসমত আলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বাকিটা আদালতের বিষয়।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখা সূত্র জানায়, বাদীর দাখিল করা নারাজি পিটিশনটির উপর এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় নসিমন-সিএনজি সংঘর্ষে যাত্রীর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধমিথ্যা ঘোষণায় অতিরিক্ত পণ্য আমদানি, জরিমানাসহ ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়