মাদক কারবারিদের ধরে ধরে মারধর করতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের ধরে ধরে মারেন। আপনাদের পক্ষে আমরা আছি, পুলিশ আছে, ইউএনও আছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত’ উপজেলা ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমি বাস্তব জীবনে ইয়াবা কেমন দেখিনি। কেবল ছবিতে দেখেছি। কিন্তু এখন উখিয়া–টেকনাফের এমপি হওয়ায় আমাকে মাদক ব্যবসায়ীর তকমা দেয়া হচ্ছে। কেন জানেন? আগের এমপিরা এখানে মাদক ব্যবসা করেছেন। তাই এর বদনাম আমাদেরও হচ্ছে। তিনি বলেন, উখিয়া–টেকনাফের মানুষ বললেই মনে করে মাদক ব্যবসায়ী। আমাদের এই দুর্নাম হওয়া কি আপনারা পছন্দ করেন? মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে টেকনাফ উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করে শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। এ জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার অর্থ এই নয় যে এখন থেকে এখানে বাল্যবিবাহ বা শিশুশ্রমের কোনো ঘটনা ঘটবে না। এখন থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে টেকনাফের মাদকের বদনাম ঘুচাতে নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ও ‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক, সদস্যসচিব হাফেজ এনামুল হাসানসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।







