বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই কাউন্সিলর একরাম হত্যা : প্রধান কৌঁসুলি

| সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিই টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলার ছক কষেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। ওই ঘটনায় গতকাল রোববার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই মামলার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ বিভিন্ন সারকামস্টেন্সিয়াল এভিডেন্স (পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য), এগুলোর ভিত্তিতে সেখানে আমাদের সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আবদুর রহমান বদি, সেখানকার একজন কুখ্যাতআমরা সংসদ সদস্য বলতে লজ্জাবোধ করছি। উনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার মেটিকুলাস ডিজাইনেই, এই বদির পরিকল্পনায় এই ঘটনাটা ঘটেছিল। কারণ এই একরাম ছিল তার প্রতিপক্ষ এবং এটাও আপনাদেরকে একটু অবহিত করে রাখি, এটা পরবর্তীতে হয়তো সাক্ষ্যপ্রমাণে আসবে, আপনারা দেখবেন যে একরামকে হত্যা করার পর তার সম্পত্তি কিন্তু এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেছিল এবং নেপথ্যের নায়ক ছিল সেই আবদুর রহমান বদি। খবর বিডিনিউজের। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলামের তরফে গতকাল সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। প্রধান কৌঁসুলি বলেন, একরামের মোবাইল ফোনটা সুইচ অন ছিল এবং সেই সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা এবং তার স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের এই যে গুলির, মানে ফায়ারিংয়ের আওয়াজ, তার পরে একরামের যে কথোপকথন, এগুলা সব শুনতে পাচ্ছিল। এবং সেটি আমাদের তখনকার ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা একটা নিউজও করেছিল। এই সমস্ত কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। আসামি রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান তারা সরাসরি গুলি করেন। আর মিফতাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য র‌্যাব কর্মকর্তারা, যারা তখন ঐ স্পটে উপস্থিত ছিল এবং তাদের তত্ত্বাবধানে, তাদের পরিকল্পনায় ওখানে হত্যাকাণ্ডটা সংঘটিত হয়। শুধু তাই না, এই ঘটনার পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এবং শেখ হাসিনা এই ঘটনাটা যাতে আর বাড়াবাড়ি না হয়, এটা নিয়ে যাতে কোনোরকমের তারা উচ্চবাচ্য না করে, সে কারণে একরামের স্ত্রীকে শেখ হাসিনা ডেকে নিয়ে এসে বলেছিল যে, এটা নিয়ে যাতে আর বাড়াবাড়ি না করে, তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ওবায়দুল কাদের নিজে এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং ওবায়দুল কাদেরের এই ঘটনার মধ্যে তার একটা স্বীকারোক্তি আছে। সেগুলি সাক্ষীরা, বিশেষ করে একরামের স্ত্রী, তার বক্তব্যের মধ্যে বিস্তারিত ঘটনা আসছে। এবং তিনি বলেছেন যে, ওবায়দুল কাদের তাকে নিয়ে এসে শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছে এবং এই ঘটনাটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই সমস্ত কিছু বিচারবিশ্লেষণ করে এবং এই সমস্ত ইনভেস্টিগেশন আমরা পর্যালোচনা করে যাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ প্রাইমারি ফেইজে কেস পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল অভিযোগপত্র দাখিল করেছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজনদাবিকে গুরুত্ব দেব, কেউ অন্যায়ের শিকার হোক সেটাও চাইব না
পরবর্তী নিবন্ধহাসিনা, বদিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ