পটিয়ায় প্রবাসীর ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী গ্রামে দুবাই প্রবাসী আলী আব্বাসের ঘরে শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ডাকাতরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মাইক্রোবাস যোগে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, প্রবাসী আলী আব্বাসের দুই পুত্রের মধ্যে মো. আরিফুল ইসলাম দুবাই থাকেন এবং অপরজন মো. আসিফের চট্টগ্রামে একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী আলী আব্বাস জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল তার বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমে তাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং কয়েকজন তাকে পাহারায় রেখে অন্যরা ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা তার স্ত্রীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে আলমিরা ভেঙে নগদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুট করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা তার ছেলের কক্ষে ঢুকে তাকে অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারধর করে এবং তার কাছ থেকেও স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
জানা যায়, ডাকাতির সময় স্থানীয় নোয়াজি মুন্সি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন শাহনেওয়াজ মন্টু রাস্তায় বের হলে তাকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়। ডাকাতি শেষে ডাকাতরা একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া দেন। এ সময় ডাকাতদল আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দিন বকুল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে ওসি জিয়াউল হক নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। বাড়ির গ্রিল বা তালা ভাঙার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডাকাতরা কিভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।










