চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ১৮ শতাংশই শিশু

চলতি মাসে আক্রান্ত ২৮৯ জন

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেড়েই চলেছে। চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত ২৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। অথচ তার আগের মাস অর্থাৎ জুনে আক্রান্ত হয়েছে ১২২ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছর মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫৮৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩৩৩ জন, নারী ১৫১ জন এবং শিশু আক্রান্ত হয়েছে ১০৩ জন। শতকরা হিসেবে ১৮ শতাংশই শিশু। এছাড়া মোট মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে কখনো মাঝারি ও কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া মাঝে মাঝে ভ্যাপসা গরমেরও অনূভূতিও আছে। এই ধরনের আবহাওয়া ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের জন্য বেশ উপযোগী। এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমছে। বিশেষ করে ফুলের টব ও ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা প্রজননে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও বাড়ছে। তাই সবাইকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও যাতে তিনদিনের বেশি পানি না জমে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া রাতে ছাড়াও দিনের বেলায়ও মশারি টানাতে হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ জন, ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, সিএমএইচ হাসপাতালে ৭ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আরো ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ডেঙ্গু রোগীর মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। অনেক অনেক রোগী এনএসওয়ান রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটি আসলে কোনো দরকার নাই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলাট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর পর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়ছে এটি ঠিক। তবে এখনো বাড়ার হার খুব বেশি বলা যাবে না। ডেঙ্গু মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। বাড়ির ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদে যাতে পানি জমে না থাকে সেইদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারে সৌদি কিংয়ের অর্থায়নে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে আইএসডিই
পরবর্তী নিবন্ধসাক্ষীদের হুমকি, জামিন বাতিল করে দুই আসামিকে কারাগারে প্রেরণ