বিলাইছড়ির পানি নামলেও নতুন করে প্লাবিত বরকল

রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি

রাঙামাটি প্রতিনিধি | সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

সপ্তাহব্যাপী টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়ন বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এসব এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে এই উপজেলার প্রায় পাঁচটি ইউনিয়নেই বন্যা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরকল উপজেলাজুড়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এবং পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, শনিবারের ভারী বর্ষণের ফলে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দিয়েছে এবং এরমধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে; গত শনিবার তাদের ৩৫ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বন্যার কারণে ভূষণছড়া ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জ্ঞান বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে কিংবা ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি সেখানে যাচ্ছেন না।

প্রতিবিন্দু চাকমা নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বড় হরিণা ইউনিয়নের কুকিছড়া বাজারসহ বহু দোকানপাট তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে বড় হরিণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছেন।

বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে শনিবার থেকে লোক বাড়ছে। আজকে (গতকাল রোববার) পর্যন্ত চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন বন্যায় বেশি প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে সুবলং ইউনিয়নও প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির তীব্র স্রোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, রোববার পর্যন্ত জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ১০৪৪টি পরিবার। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়িতে উন্নতি : রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানি কমছে। বিলাইছড়িতে রাইংখ্যং নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মৃনাল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, রোববার (আজ) সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এখন ফারুয়া বাজারসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই পানি নেমে গেছে। তবে পুরো এলাকা কাদাময় হয়ে আছে। যে কোনো সময় টানা বৃষ্টি হলে আবারও তলিয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনে তিন মাস পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস :

এদিকে, শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধস ও বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হবে। বন্যায় ও পাহাড় ধসে অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যতদিন সহায়তা লাগে দেওয়া হবে। প্রয়োজেনে তিন মাস পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইএমএফের নতুন ঋণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু
পরবর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় ৪শ বোতল বিদেশি মদ জব্দ