চন্দনাইশে গত এক সপ্তাহের বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে এসব ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলেও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপে কাটা ১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসাসেবা শেষে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এরা হলেন, চন্দনাইশ পৌরসভার হারলা এলাকার মোরশেদুল আলম (৪২), বরকল এলাকার মোহাম্মদ আলী (১৯), মোরশেদ আলী (২৫), মোহাম্মদ আলী (৪০), আহমদ হাসান (১৪), ওমর ফারুক (১৪), দোহাজারী পৌরসভা এলাকার হোসনে আরা বেগম (৫০), বৈলতলী এলাকার অনিক (২০), আরিফ হোসেন (৩২), ফরহাদুল ইসলাম (২১), কালিয়াইশ এলাকার শয়ন দাস (১৭)। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, বর্তমানে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগী। বন্যা পরবর্তী এসব রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়বে। বর্তমানে হাসপাতালে এসব রোগের পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বন্যার পানি প্রবেশ করা উপজেলার জাফরাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক, বৈলতলী কমিউনিটি ক্লিনিক, হাছনদন্ডি কমিউনিটি ক্লিনিক, কানাইমাদারী কমিউনিটি ক্লিনিক, উত্তর জোয়ারা কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সাময়িক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার পানি নামার পর এসব ক্লিনিক পরিষ্কার করে পুনরায় চিকিৎসাসেবা শুরু করা হবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার বরকল ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কানাইমাদারী কমিউনিটি ক্লিনিকের চারপাশে বন্যার পানি। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন কমিউনিটি ক্লিনিকে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। এসময় মরিয়ম বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের সবকিছু ডুবে গেছে। বাড়ি–ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানির মধ্যে থাকতে থাকতে জ্বর ও সর্দি হওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকে এসেছিলেন ওষুধ পাওয়ার আশায়। কিন্তু সেখানেও পানি প্রবেশ করায় এখন ফিরে যাচ্ছি।










