চট্টগ্রাম হবে লজিস্টিক্যাল হাব

শাহ আমানত বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রী । এখানকার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে পরিকল্পনায় অনেক কিছু নিয়ে আসছি

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ভৌগোলিক ও স্ট্রাটেজিক (কৌশলগত) অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম লজিস্টিক্যাল হাব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে সেটার (লজিস্টিক্যাল হাব) প্রতিফলন ঘটেছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর প্রথমবার গতকাল শনিবার নিজ শহর চট্টগ্রাম আসেন অর্থমন্ত্রী। সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় বাজেটে চট্টগ্রামকে ঘিরে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেট প্রথমত বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে সেটাকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলোকে আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বভাবতই অনেক বেশি। কারণ এখানে বন্দর আছে। সমুদ্রবন্দর শুধু নয়, চট্টগ্রামে একটা ভৌগোলিক অবস্থান আছে, স্ট্রাটেজিক একটা অবস্থান আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনায় অনেক কিছু নিয়ে আসছি। এখানে আমরা ৬০০ একর জমি নিয়ে নদীর ওপারে ফ্রি জোনের (মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল) একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিটাগাংয়ে অনেকগুলো পোর্ট আমরা একসাথে করতে যাচ্ছি।

খসরু বলেন, চট্টগ্রামকে একটা লজিস্টিক্যাল হাব করার জন্য বাজেটে সেটার প্রতিফলন ঘটেছে। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট নিয়েও চিন্তা আছে। এটাকে কার্গো হাব, প্যাসেঞ্জার হাব করারও পরিকল্পনার মধ্যে আছে। এখানে চাইনিজ ইকোনমিক জোন হতে যাচ্ছে এবং ঢাকাচট্টগ্রাম লিংকের জন্য লাকসামের যে বিষয়টা আছে (কর্ডলাইন), ট্রেনে দুই ঘণ্টার ট্রাভেল টাইম যাতে কমে আসে, সেটাও বলা আছে। সবগুলো হলে চট্টগ্রাম থেকে যে করিডর বাংলাদেশের সাথে, সেটা হবে। লজিস্টিক্যাল হাব হবে। বন্দরগুলো অনেক বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। ওদিকে মাতারবাড়ি, সেখানে একটা বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আছে, যে লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনা আছে, সবগুলোকে মাথায় রেখে বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। কয়েক বছর সময় লাগবে। কাজগুলো ইনশাআল্লাহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা শুরু করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, একটা কঠিন সময়ে এত বড় একটা বাজেট। আমরা যেটা বিগত সরকারগুলো থেকে ইনহেরিট করেছি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতি তো এখন খুবই খারাপ অবস্থায়, যেটা আমরা পেয়েছি। এখান থেকে আগে বেরিয়ে আসতে হবে। এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্থিতিশীল করতে হবে, তারপর সম্ভাবনার দিকে যাব। তারপর অর্থনীতি, এই যে প্রসপারিটি যেটা বলছি, সেটা শুরু হয়ে যাবে, তৃতীয়চতুর্থ বছর থেকে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা সেটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আমরা বিশ্বের অন্যতম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া, ওয়ান ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির যে ফোরকাস্ট করেছি, সেদিকে আমরা এগিয়ে যাব।

এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, তারপর ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ, ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ, সবাই আসছে। বাংলাদেশ এখন ডেস্টিনেশন ফর বিনিয়োগ। চিন্তা নাই।

এর আগে অর্থমন্ত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় মেয়র বন্দর থেকে চসিকের রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা এবং চসিকের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীর উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় : এর আগে বিমানবন্দরে চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো টেকসই ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।

সভায় চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাজেটে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের নীতিগত পদক্ষেপ দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নই দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ কারণে ঢাকাচট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্ডলাইন, এঙপ্রেসওয়ে, বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী ও আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো, সিটি আউটার রিং রোড, মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেঙ, রামু ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার এবং আনোয়ারাবাঁশখালীচকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী সমাজের মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও টেকসই করা হবে। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্যে পরিণত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ এমপি, আবু সুফিয়ান এমপি, এনামুল হক এনাম এমপি, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন, কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম রহমান, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ছালাম, ইস্পাহানী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানী, ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, আবুল খায়ের গ্রুপের ডিএমডি আবু সাঈদ চৌধুরী, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স এসোসিয়েশনের লিয়াকত আলী চৌধুরী, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম, বারভিডার সাবেক মহাসচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, টিকে গ্রুপের পরিচালক হাসনাত মো. আবু ওবাইদা, ইলেক্ট্রোমার্র্টের পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাস্থ্য খাতের খারাপ চর্চাগুলো থেকে বেরিয়ে রিসেট করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬