শিশু ইরা হত্যার রায় ঘোষণা ৭ জুলাই

হাবীবুর রহমান | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে পাহাড়ে গলায় ছুরি চালিয়ে শ্বাসনালি কেটে ৭ বছর বয়সি শিশু ইরা খুনের আলোচিত মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণসহ যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করেছে আদালত। আগামী ৭ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। প্রায় চার মাস আগে সংঘটিত হৃদয়বিদারক এ ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত হলেও ‘আত্মপক্ষ সমর্থন’ শুনানিতে বাবু শেখ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আবার সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেছেন, মাথা ঠিক ছিল না, কিভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালএ নৃশংস এ খুনের মামলাটির বিচার কাজ চলছে। আদালতটিতে বিচারকের (জেলা ও দায়রা জজ) পদে রয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে যুক্তিতর্ক পর্যন্ত কার্যক্রম শেষ করতে শুধুমাত্র ১০ কার্যদিবস সময় লেগেছে জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ৭ বছর বয়সি শিশু ইরা খুনের মামলাটি ১৬ জুন আমাদের ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে আসে। ১৭ জুন পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।

সেদিন সাক্ষীদের প্রতি সময় ইস্যু করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২১ জুন, ২২ জুন, ২৩ জুন, ২৪ জুন, ২৫ জুন ও ২৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। এরপর ২৯ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিকে পরীক্ষা (আত্মপক্ষ সমর্থন) করা হয়। পরদিন ৩০ জুন আসামি আদালতের কাছে সাফাই সাক্ষ্য দেন জানিয়ে বেঞ্চ সহকারী বলেন, এক পর্যায়ে ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি সমাপ্ত করে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ধার্য করেন। যুক্তিতর্ক শুনানি পর্যন্ত সব মিলে ১০ কার্যদিবস সময় অতিবাহিত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে ১৩ কার্যদিবসের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর ১১ জুন ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/()() এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশের পাহাড়ে শিশু ইরার গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন বাবু শেখ। সেদিন তিনি প্রথমে ভিকটিমকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। ভিকটিম চিৎকার করলে তিনি উক্ত কাজে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে খুনের উদ্দেশ্যে তিনি শিশুটির গলায় ছুরি চালান এবং মৃত ভেবে শিশুটিকে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যান।

পুলিশ জানায়, বাবু শেখ শিশুটিকে মৃত ভাবলেও তখনো শিশুটির মৃত্যু হয়নি। শিশুটি গলা কাটা অবস্থায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে আসে। উক্ত সড়কের সংস্কার কাজে থাকা শ্রমিকেরা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে, পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পরদিন ২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দুদিন পর ৩ মার্চ বাবু শেখকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ৪ মার্চ পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। সেখানে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শিশু ইরা খুনের পর পুলিশ সুপার বলেছিলেন, শিশুটির পরিবার ও বাবু শেখের পরিবার প্রতিবেশী। পাশাপাশি থাকার কারণে তাদের মধ্যে প্রায় বিরোধ লেগে থাকত। বিরোধকে কেন্দ্র করে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবু শেখ। এরই ধারাবাহিকতায় শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। চিৎকার দিলে নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে শিশুটির গলায় ছুরি চালানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
পরবর্তী নিবন্ধকেপ ভার্দের প্রবল প্রতিরোধ, আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয়