প্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে অশালীনতার অন্ধকারে!

সত্যজিৎ দাশ কাঞ্চন | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

বাবা ওঠো, মা ওঠো, কলেজের সময় হয়ে যাচ্ছে। সকাল বেলা মায়ের মধুর ডাক, মা ভোরে উঠে ছেলেমেয়েদের জন্য রান্না বান্না করে পেট ভরে খাইয়ে পকেটে টাকা পয়সা গুজে দিয়ে ছেলেমেয়ে কে কলেজে পাঠান লেখাপড়া করতে। বাসা থেকে কলেজের নামে বের হয়ে ছেলে মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে? সিআরবি চত্বরে, শিরীষতলা, ডিসি হিলে, গাছের নিচে ঝোপের আড়ালেবন্ধুকে নিয়ে প্রেম বিনোদনে! তারপর বিকেল ৪/৫ টায় লেখাপড়ার চাপে ক্লান্ত ভাব দেখিয়ে ঘরে ফেরা! আবার মা বাবার ব্যস্ততা, আহা কলেজে লেখাপড়া করতে করতে সন্তান কি ক্লান্ত হয়ে গেছে! মা আবার দৌড়াচ্ছেন রান্না ঘরে, সন্তানকে পেট ভরে খাওয়াতে হবে, সারাদিন কিছুই খায়নি, ইস্‌ চেহারা টা শুকিয়ে গেছে!

বাবা আমার ফোনটা খারাপ হয়ে গেছে, একটা আইফোন কিনে দাও, অনলাইনে লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত বাবা পড়লেন মহাচিন্তায়, এতো টাকার আই ফোন! অবশেষে বাবা ধার দেনা করে আই ফোন কিনে দিলেন! কী মজা দিনে রাতে বন্ধুর সাথে অনলাইন চ্যাটিং! এ বয়সী ছেলেরা আশেপাশে বয়স্কদের সামনে যেভাবে সিগারেটে টান দেয় মনে হয় তারাই সবদিকে সিনিয়র, বাকীরা জুনিয়র! আমাদের সময়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি কয়েকজন বন্ধু ধূমপান করত, বড়দের দেখলে হাতের সিগারেট ছুঁড়ে মারতো অনেক দূরে, এখন সিনিয়রদের দেখলে ছেলেরা হাতের সিগারেট পিছনে নিয়ে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে! এই প্রজন্মরাই তো আগামীতে দেশ গড়বে। তার আগেইতো তারা হারিয়ে যাচ্ছে অশালীনতার অন্ধকারে ! এই প্রজন্মকে বাঁচাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন!

পূর্ববর্তী নিবন্ধমমতার বন্ধন কি ছোট হয়ে আসছে!
পরবর্তী নিবন্ধঅস্তিত্বের অবগাহনে