প্রথমার্ধের বর্ণহীন পারফরম্যান্সের মাঝে ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারিকে হারাল মরক্কো। তবে, বিরতির পর ঠিকই ঘুরে দাঁড়াল তারা। দলের প্রয়োজনে গোলের জোগান দিলেন আজেদিন উনায়ি। তার কাঁধে চেপে, সহ–আয়োজক কানাডার অভিযান থামিয়ে কোয়ার্টার–ফাইনালে উঠল আফ্রিকার দলটি। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের বিজয়ী দল। গতকাল শনিবার হিউস্টনে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে ৩–০ গোলে জিতেছে মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধে উনায়ির জোড়া গোলের পর, শেষ সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান সুফিয়ান রাহিমি।
পারফরম্যান্সের আলোকে এদিন মরক্কোকে একদমই সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। প্রথম অর্ধে তো পরিষ্কারভাবেই সেরা দল ছিল কানাডা। একটি ফুটবল ম্যাচ জিততে গেলে যা যা করার দরকার, সবই করল তারা। দলের সেরা ফুটবলারদের নামাল। আক্রমণের ঝড় তুলে দিল। বিপক্ষকে ব্যস্ত রাখল। শুধু গোলটাই করতে না পারায় থামল এ বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্নযাত্রা।
গত বারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো বিশ্বকাপে কখনওই সহজ দেশ নয়। ব্রাজিলের মতো দেশকে এবার নাকানি–চোবানি খাইয়েছে তারা। শেষ ৩২–এ নেদারল্যান্ডসের মতো দেশকে ছিটকে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কানাডাকে যথেষ্ট ভাল খেলেছে। মরক্কো তাড়াহুড়ো না করে অপেক্ষা করেছে। সঠিক সময়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ বার করে নিয়েছে। কানাডার মতো অনবরত আক্রমণ করার মতো পরিশ্রম তাদের করতে হয়নি। পারফরম্যান্সে হতাশাজনক শুরুর মাঝে বড় এক ধাক্কাও খায় মরক্কো। ২২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে একটি করে গোল করা ফরোয়ার্ড সাইবারি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই দারুণ এক গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। ডান দিকে ফ্রি কিক পেয়ে, আশরাফ হাকিমি ডি–বঙের মুখে বল বাড়ান উনায়িকে, আর প্রথম ছোঁয়ায় নিচু জোরাল শটে পোস্ট ঘেঁষে গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে প্রথম জালের দেখা পেলেন উনায়ি। পরে আরো এ কটি গোল করেন তিনি। আট মিনিট যোগ করা সময়ে জালের দেখা পান রাহিমি। আসরে দলের পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই রাহিমি খেলেছেন বদলি হিসেবে। তবে সঠিক সময়েই দলের জয়ে অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি, দুর্দান্তভাবে; কেবল ১২২ মিনিট খেলে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করলেন এই স্ট্রাইকার।












