দৈনিক আজাদীর সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম এ মালেক বলেছেন, যুব সমাজই দেশের চালিকাশক্তি। সুশিক্ষিত, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন যুবসমাজই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শপথ গ্রহণ, গুণীজন সংবর্ধনা এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এম এ মালেক বলেন, একটি প্রবাদ আছে–যদি আপনি দ্রুত যেতে চান, তবে একা যান; কিন্তু যদি আপনি দূরে যেতে চান, তবে একসঙ্গে যান। এই যে একত্রে যাওয়া, অনেকের একসাথে যাওয়া–এটাই যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন একটি সংগঠন সময়ের সীমানা পেরিয়ে ইতিহাসে রূপ নেয়। বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, চট্টগ্রাম এই ইতিহাসের সাক্ষী।
তিনি বলেন, একদিন শতবর্ষের গৌরবময় পথও আপনারা অতিক্রম করবেন। তবে মনে রাখতে হবে, একটি সামাজিক সংগঠনের প্রকৃত পরিচয় তার বয়সে নয়, তার প্রভাবে। সে কতজন মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছে, কতজন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে, কতজন অসহায়, আর্ত ও বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে–এটাই হতে হবে সবচেয়ে বড় পরিচয়। কোনো এক দার্শনিক বলেছিলেন, তোমার কারণে যদি একজন মানুষও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে, তবে জানবে তুমি সফল হয়েছ।
আজাদী সম্পাদক বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন প্রযুক্তি আমাদের হাতে পুরো পৃথিবীকে এনে দিয়েছে, কিন্তু পাশের মানুষটিকে কাছে আনতে পারেনি। বিশ্বের অন্য প্রান্তে কী ঘটছে তা আমরা মুহূর্তের মধ্যেই জেনে যাচ্ছি। কিন্তু পাশের বাড়ির মানুষটি কেমন আছেন আমরা জানি না। আশপাশে কারো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না সেসব জানার চেষ্টাও করছি না। আমরা তথ্যের প্রাচুর্য দেখছি, সাথে সহমর্মিতার, সহযোগিতার সংকটও দেখছি। এই বাস্তবতায় সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। কারণ এ ধরনের সংগঠন মানুষকে শুধু একত্রিতই করে না, মানুষকে মানুষের খোঁজ নিতে শেখায়, সহমর্মিতার হাত বাড়াতে শেখায়। আমরা জানি, আনন্দ ভাগ করে নিলে আনন্দ বাড়ে। স্বপ্ন ভাগ করে নিলে স্বপ্ন বড় হয়। আর দায়িত্ব ভাগ করে নিলে সমাজ এগিয়ে যায়।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাবেক লায়ন্স গভর্নর ও শিল্পপতি লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান উপদেষ্টা প্রমতোষ বড়ুয়া।
সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের যুগ্মসচিব সুমন বড়ুয়া এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বরূপ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের জাতীয় কমিটির মহাসচিব প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড, কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব’র সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরী, বৌদ্ধ সমিতি যুব’র সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান সপু বড়ুয়া এবং শিল্পোদ্যোক্তা লায়ন সোহেল বড়ুয়া।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সহ–দপ্তর সম্পাদক রাসেল বড়ুয়া মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন। সঞ্চারী নৃত্য একাডেমির পরিচালক স্বপন বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন অস্মিতা বড়ুয়া, আরাধ্য বড়ুয়া মিষ্টি, অথৈ দীপ্তি বড়ুয়া দুষ্টু, অস্পিতা বড়ুয়া দিঘী, তিতলী বড়ুয়া ও দেবারতি সাহা।
সংগঠনের সহ–সাধারণ সম্পাদক রিকন বড়ুয়া ও সঞ্চারী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান পরিষদের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তুষার কান্তি বড়ুয়া। সংগঠনের সভাপতি সনজয় বড়ুয়া পিপলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উত্তম কুমার বড়ুয়া। সম্পাদকীয় পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাপস বড়ুয়া। বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব লায়ন প্রকৌশলী দীপক বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী সুমন বড়ুয়া বাপ্পি, বুলবুল বড়ুয়া, তুষার বড়ুয়া, প্রকাশনা চেয়ারম্যান অলক বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক লায়ন সুমন বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক রিপন বড়ুয়া, জাতক বড়ুয়া ও ব্যাংকার রাজীব বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে ‘সাম্য’ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সনদ ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।











