অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে বাজেটের কাঠামো বদালোনোর চেষ্টার কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রথমে যেটা আমরা বলেছি অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন কারণ বাংলাদেশে অর্থনীতিটা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকটা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন হচ্ছে– বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেটাকে মাথায় রেখে যারা অর্থনৈতিক সুফলের বাইরে ছিল এতদিন, তাদের অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাজেট বিষয়ক এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন। আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পের অর্থনৈতিক কোনো গুরুত্ব নেই দাবি করে আমির খসরু বলেন, সেগুলো বর্তমানে সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ওই প্রকল্পগুলো বিএনপি সরকারের জন্য দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, কি ধরনের প্রকল্প আপনারা বুঝতে পারছেন। কিছু বাদ দিতে পারছি, সব বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক প্রকল্পের ৫০–৬০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। না ফেলতে পারছি, না গিলতে পারছি। এটা বর্তমান সরকারের বড় সমস্যা। খবর বিডিনিউজের।
সকলের জন্য অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দিতে বাজেটের পরিকল্পনা কৌশল বদল করার কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং স্পট বায়িং বা অর্থায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মাঝেই গতানুগতিক ফরম্যাট থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিতে একটি নতুন মডেল ও চিন্তার ওরিয়েন্টেশন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে কামার–কুমার, কুটির শিল্প, তাঁতী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গ্রামের নারীদের অর্থনৈতিক মূলধারায় আনার উদ্যোগ রাখার কথা বলেন তিনি। রাজস্ব আদায় হতাশাজনক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স–জিডিপি অনুপাতও অত্যন্ত হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও পাবলিক ফাইন্যান্সিং কমে আসছে। বড় ঋণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ক্যাপিটাল মার্কেট বা পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে।












