রাজস্ব আয় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, নদী ভাঙন রোধে খরচ ৮০ কোটি

সংসদে রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলনে লাভ-ক্ষতির হিসাব দিলেন হুমাম

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম(রাঙ্গুনিয়া) আসনের বর্তমান প্রধান সংকট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এই অবৈধ বালুর ব্যবসাকে একটি মাফিয়া সেক্টর হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কারণে স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে রাউজানে নির্মমভাবে খুন হতে হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার এই জলন্ত সমস্যা ও দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বালু উত্তোলনের একটি লাভক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে দেখান। তিনি বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই বালুর ব্যবসা থেকে রাঙ্গুনিয়া অঞ্চল থেকে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ট্যাক্স বা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। অথচ এই বালু তোলার কারণে যে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা রোধে ব্লকের মাধ্যমে নদীর পাড় ঠিক করতে সরকারকে খরচ করতে হয়েছে ৮০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নদী থেকে উত্তোলিত বালুর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে। এই লাভজনক ব্যবসাটি এখন একটি মাফিয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই মাফিয়া চক্রের ভয়াবহতা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সম্প্রতি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীর কথা স্মরণ করেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট মাত্র ৬.% বৃদ্ধিকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও সুপ্রশিক্ষিত করতে হবে।

ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করা এই সংসদ সদস্য বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বললে ডেপুটি স্পিকার রসিকতা করে মন্তব্য করেন, জ্বি, ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলের প্রোডাক্ট হলেও উর্দু ভালো জানেন। আরও দুই মিনিট বাড়ানো হলো। জবাবে হুমাম কাদের চৌধুরীও হেসে বলেন, মাননীয় স্পিকার, এখানে বসে বসেই অনেকখানি উর্দু শিখে ফেলেছি।

বাজেট ও দেশের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তার ফান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আর এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতেই অর্থমন্ত্রী কর্পোরেট ট্যাঙ বাড়াননি। বাজেটের আকার নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে হুমাম কাদের চৌধুরী একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে বলেন, আমি বিরোধী দলকে অনুরোধ করব, এই বাজেটকে তার আকারের ওপর ভিত্তি করে বিচার করবেন না, বরং এর মেরুদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করুন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অর্থমন্ত্রী এমন একটি মজবুত অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে আগামী ৫ বছরের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুরি-ছিনতাই করা ১৫৭ মোবাইল, ল্যাপটপ আইএমইআই পরিবর্তনের সরঞ্জাম উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধমাটিরাঙ্গায় অস্ত্রসহ ইউপিডিএফের তিন সদস্য আটক