বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের হয়ে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কুইনোনেস এবং অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস। এই ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখান রেফারী। দ্বিতীয় হাফের ঠিক ৫ মিনিটে (৫০ মিনিটে) মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ডি–বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে। ‘লাস্ট ম্যান’ হিসেবে ফাউল করায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন পেরেইরা সাম্পাইও তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ১০ জনের দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেয়ে মেক্সিকান কোচ হাভিয়ের আগুয়েরে ১৭ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার গিলবার্তো মোরাকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনের পরপরই ম্যাচের দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় মেক্সিকো। একটি চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ২–০ করেন ৩৫ বছর বয়সী তারকা রাউল হিমেনেজ। ম্যাচের নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। ৩৯ মিনিটে (৮৪ মিনিটে) দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার জোয়ানে মেক্সিকান খেলোয়াড়ের মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। ভিএআর রিভিউ দেখে রেফারি তাকেও লাল কার্ড দেখান। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ম্যাচ শেষের ঠিক আগে, ৪৭ মিনিটে (৯২ মিনিটে) মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস ডি–বক্সের বাইরে একটি মারাত্মক ফাউল করে বসেন। রেফারি তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখালে মেক্সিকোও ১০ জনের দলে পরিণত হয়। শেষ মুহূর্তে দুই দল মিলিয়ে মোট তিনটি লাল কার্ডের দেখা মেলে এই ম্যাচে।
স্টেডিয়ামের ভেতরে যখন মেক্সিকোর জয়জয়কার, ঠিক তখন স্টেডিয়ামের বাইরে মেক্সিকান নাগরিকদের একাংশ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। বেতন বৃদ্ধি এবং ড্রাগ কার্টেলের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারি তদন্তের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম এই ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি রাজধানীর উপকণ্ঠে একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ সমর্থকদের সাথে বড় পর্দায় এই ম্যাচটি উপভোগ করেন।










