চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে চাকসুর উদ্যোগে একটি জরাজীর্ণ শাটল ট্রেনের বগি পরিবর্তন করে নতুনভাবে দশ বগির একটি ট্রেন উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর শাটল ট্রেনেও তুলনামূলক ভালো বগি সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের বটতলী রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল–ফোরকান।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল–ফোরকান বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এখনো তিনমাস হয়নি। ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসে একটা বড় সংযোজন হয়েছে, আমরা অনেক দিনের পুরোনো একটা রেল পরিবর্তন করে নতুন ট্রেন নিয়ে আসতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল–আমীন, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি এবং পরিবহন ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া।
ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে দুইটা শাটল ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু দুইটা ট্রেনের মধ্যে একটা ট্রেনের সবগুলো বগি পরিবর্তন করে নতুন বগি সংযোজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরাতন বগিগুলোতে বেশকিছু মৌলিক সমস্যা ছিল। ফ্যান চলতো না, লাইটগুলো ভাঙা ছিল, অনেকগুলো বগির সিলিং ও ফ্লোর নষ্ট ছিল। এখনের সবগুলো বগি রিপেয়ার্ড এবং নতুন। চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চবি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শাটল ট্রেন এসেছে। এটা আনন্দের। অপর শাটলটিতেও কিছু বগি পরিবর্তন করে তুলনামূলক ভালো বগিগুলো সংযুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন চালু হয়। বর্তমানে দুটি শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।











