বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে গতকাল ৫ জুন। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করলেও এই দিবসের তাৎপর্য্যপূর্ণ কোনো ছোঁয়া লাগে না প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর বেলায়। হালদা পাড়ের মানুষ ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গের মতে, ১৯৭২ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি পরিবেশের অশুভ প্রভাব মোকাবেলার প্রতিশ্রুতিতে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে। অথচ পরিবেশের উপর অশুভ প্রভাব সৃষ্টিকারী খাত সমূহ চিহ্নিত করে বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয় না। স্থানীয়রা বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের নানা দিক তুলে ধরে অভিযোগ করে বলেন, মৎস্য হেরিটেজ ঘোষিত হালদা নদী আজ পরিবেশ বিপর্যায়ের শিকার। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক এই মৎস্য খনিটিকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।
গতকাল ৫ জুন নদী পাড়ে ঘুরে দেখা গেছে, খাল নালা হয়ে নদীতে নামছে নানা রকম দূষিত বজ্য। নদীতে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত নৌযান চলাচল। মদুনাঘাটে নোঙ্গর করা অবস্থায় আছে বালু পরিহনের বড় যান্ত্রিক নৌযান। নদীতে ধাবড়ে বেড়াচ্ছে স্পিড বোট। সংযুক্ত খাল নালা হয়ে নেমে আসছে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, লোকালয়ের খাল বিলের লতাপাতা পঁচা বিষাক্ত পানি। নদীর পানিতে এসে মিশে যাচ্ছে খামার থেকে নিক্ষিপ্ত মুরগির বিষ্টা। নদী পাড়ের মানুষের অভিযোগ বিশেষায়িত এই নদীটি মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার হয়ে গত ছয় বছরে ৫০টির অধিক বিপন্ন প্রজাতির ডলফিনসহ নদীতে মরে ভেসে উঠেছে ৩১ টি মা মাছ। ভেসে উঠা এসব কার্পজাতীয় মা মাছের ওজন ৭ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, নদীর সর্বত্র ভাসছে নানা ধরণের পলিথিন, প্লাষ্টিকসহ নানা ধরণের পঁচনশীল বর্জ্য। নদী ও খাল পাড়ে রয়েছে অসংখ্য মুরগির খামার। এসব খামারে সৃষ্ট বিষ্টা ফেলা হচ্ছে খাল, নদীতে।
হালদা বিশেষজ্ঞ বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়ার মতে, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মূল কারণ পানি দূষণ। নদীর পানি দূষণের মাত্রা এখন উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য অব্যাহত ভাবে খাল নালা হয়ে নদীতে এসে পড়ছে। নদী ও খালে পাড়ে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা শত শত পোলট্রি ও ডেইরি ফার্মের বর্জ্যসহ ফেলা হচ্ছে মরা পশুও। সংযুক্ত খাল হয়ে আসছে লোকালয়ের মাঠ ঘাটে পঁচে যাওয়া ঘাস, তরুলতার বিষাক্ত পানি। এই বিশেষজ্ঞের মতে, এসব বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে সৃষ্টি করছে অ্যামোনিয়া গ্যাস। এই গ্যাসের মাত্রা উদ্বেগজন ভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে মাছসহ জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে।
হালদা ও সংযুক্ত খাল সমূহের পাড়ে থাকা জেলে পল্লীর অনেকেই বলেছেন বিভিন্ন খালে এখন বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হচ্ছে। জোয়ার ভাটার সময় খালের কিনারায় মিহি সুতার জাল বসিয়ে লোভী শ্রেণির মাছ শিকারীরা ছোট মাছের বংশ বিনাশ করছে। হালদার সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় দ্রুততম সময়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই হালদা এক সময় মাছ শূন্য বুড়িগঙ্গা নদীতে পরিণত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।












