চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল আদালত পাড়ায় নানা ঘটনা ঘটে গেছে। বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ কর্তৃক নির্বাচন বাতিল চেয়ে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এরপর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পাওয়া পরিষদটির ১২ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরো বেগম দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন, সভাপতি, সেক্রেটারিসহ মোট ৯ টি পদে একজন করে প্রার্থী হওয়ায় সেগুলোতে আর ভোট হচ্ছে না। বাকী ১২টি পদে আগামীকাল ভোট হবে। এতে মোট ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন বিএনপিপন্থী ও ১২ জন জামায়েতে ইসলামীপন্থী সংগঠনের প্রার্থী। জামায়েতে ইসলামী পন্থী সংগঠনের ১২ জন আইনজীবী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত একটি দরখাস্ত কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে– সেই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রৌশন আরা বেগম বলেন, আমি অফিস থেকে বের হয়ে গেছি। বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এমন কিছু আমার নজরে পড়েনি। জামায়েতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম গতকাল সন্ধ্যায় দৈনিক আজাদীকে বলেন, নির্বাচন বাতিল চেয়ে আমাদের করা নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এটি দুঃখজনক। আমরা এটির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমরা এ নির্বাচন বয়কট করছি। সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা সহ–সভাপতিসহ আমাদের ৭ জন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আগামীকালের (আজকের) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আমাদের ১২ জনও ভোট বর্জন করেছেন। এখন নির্বাচনের মাঠে শুধু বিএনপিপন্থী ২১ জন প্রার্থী। পদ সংখ্যাও ২১ টি। এ অবস্থায় আর নির্বাচনের কী প্রয়োজন! নির্বাচন মানে তো একাধিক পক্ষ থাকবে। যেখানে শুধু একটি পক্ষ থাকে, সেটিকে তো নির্বাচন বলা যাচ্ছে না। জেলা আইনজীবী সমিতির আজকের নির্বাচন ঘিরে গতকাল আদালত পাড়াজুড়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার মধ্যে আরেকটি হচ্ছে– নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আওয়ামীপন্থীদের কালো পতাকা মিছিল।
সাধারণ আইনজীবী পরিষদ নামের ব্যানারে দুপুর ২ টায় সমিতির ১ নম্বর মিলনায়তন থেকে শুরু করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন হয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সম্মুখে কালো পতাকা মিছিল করেছে আওয়ামীপন্থীরা। মিছিলটি আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এসে শেষ করা হয়। ‘ভোট চোর, ভোট চোর’ বলে এসময় নানা স্লেগান দেওয়া হয়। পরে আইনজীবী ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করা হয়।
এতে নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন, তফসিল ঘোষণা করে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি করা হয়। প্রায় একই সময়ে নির্বাচন বয়কট বিষয়ে আইনজীবী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়েতে ইসলামীপন্থী আইজীবীরা। বিএনপিপন্থীরাও আদালত পাড়ায় স্লোগানে স্লোগানে সরব ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬’এর নির্বাচনের জন্য গত ১ মে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য ছিল গত ৪ মে।
সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্য নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে লাভ কী! ব্যালটসহ সবকিছু তো রেডি। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতিও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী আগামীকাল (আজ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।












