প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল খায়ের অভিনীত গাছের একটা বিজ্ঞাপনে বলেছেন, ‘এক একটা গাছ এক একটা অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি।’ তিনি একজন কবিরাজ হিসেবে সব গাছ কেটে ফেলার দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গাছের মালিককে বলেন যে, তিনি ওষুধ কি দিয়ে বানাবেন। লোকটি ঔষধি গাছগুলো কেটে ফেলেছে টাকার প্রয়োজনে যেগুলো তার বাবা লাগিয়েছিলো। কিন্তু ভবিষ্যতে তার ছেলেরও টাকার প্রয়োজন হতে পারে তাই তারও গাছ লাগানো উচিত বলে মনে করেন আবুল খায়ের। এটা একটা শিক্ষামূলক বিজ্ঞাপন। আসলে বন বা যে কোন জায়গার কিংবা পূর্ব পুরুষদের লাগানো বৃক্ষ যদি কেউ নিধন করে টাকা উপার্জন করে তাহলে পরিবেশ তথা যার গাছ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। তাই একটা গাছ কাটলে দুইটা গাছ লাগানো উচিত। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে আর মানুষও ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
অনেক সংগঠন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ফ্ল্যাট বাসা, সমবায় সমিতি আরও নানান প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলে সবার থেকে বিভিন্ন কাজ বা সমস্যার সমাধানের জন্য টাকা উত্তোলন করে জমা রাখা হয়। এতে দুই তিনজন মধ্যমনি হিসেবে সব তদারকি করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় নানা কাজের ফিরিস্তি দিয়ে সবার জমানো টাকা গুটি কয়েক মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়ে অন্যদের ঠকায়। এতে সবার সাথে সবার সম্পর্ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কেউ প্রতিবাদ করে, কেউ নীরবে সহ্য করে, আর কেউ বা সহযোগিতা করে ঐ অন্যায়কারীদেরকে। বিশেষ করে ফ্ল্যাট বাসায় যৌথভাবে টাকা তুলে বিল্ডিং এর বিভিন্ন কাজ করবে বলে জমা রাখার পর দিনের পর দিন গুটিকয়েক মানুষ সবাইকে ঠকিয়ে বহাল তবিয়তে বসবাস করে যাচ্ছে। একবারও ভেবে দেখে না অন্যের পরিশ্রমে রোজগার করা টাকা অনায়াসে নিজেরা ভোগ করে নির্লজ্জের মতো। যারা ভুক্তভোগী একমাত্র তারাই জানে।
অনেক সমিতির জমানো টাকাও এভাবে আত্মসাতের ঘটনায় অনেকের জেল হয়েছে আবার কেউ টাকা নিয়ে লাপাত্তাও হয়েছে। তবে প্রকৃতির ক্ষতি বা মানুষের ক্ষতি যারাই করুক না কেন প্রতিটি আঘাতের প্রতিঘাত আছে। গাছ কেটে যেমন পরিবেশের ক্ষতি করলে পরিবেশ ভারসাম্য হারায় তেমনি মানুষের টাকা বা সম্পত্তি অন্যায়ভাবে ভোগ করলে তার হিসেবও একদিন স্রষ্টা বুঝে নেয়।
অনেক গ্রাম বা শহরে কিছু কিছু লোক জায়গা দখল করে বসে থাকে। কিছু বলতে গেলে তার কোন প্রতিকার হয় না। কিছু না কিছু অজুহাত দেখিয়ে তা এড়িয়ে যায়। অনেকে আবার ঝামেলা বা ভয়ে চুপ থাকে। এভাবে অন্যের অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ বা টাকা দখল করে দিনের পর দিন মানুষকে ঠকিয়ে যায়। এতে সম্পর্কে সৃষ্টি হয় ফাটল, বাড়ে শত্রুতা। মানুষের আড়ালে যিনি সবকিছু হিসেব রাখেন তিনিই তার প্রতিকার করেন। হয়তো সময়ের ব্যাপার। তাই সকলের সুন্দর জীবন যাপনের জন্য পরিবেশ, সম্পর্ক ও সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা করা আবশ্যক। নতুবা প্রকৃতির হিসেব প্রকৃতিই আদায় করে নেবে।
সামনে বর্ষাকাল। সবাই দুইটা করে গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অন্যকেও উৎসাহিত করতে হবে। সেই সাথে অন্যের সম্পদ বা অর্থ অন্যায়ভাবে ব্যবহার না করে নিজের উপার্জিত অর্থ বা সম্পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে সকলের সাথে সকলের সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে।













