চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নূর নাহার মিলনায়তনে দীপান্বিতার পাঠশালার আয়োজনে গত ১২ মে অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্রস্মরণ অনুষ্ঠান ‘আজিই এ প্রভাতে রবির কর’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শব্দ, সুর ও চেতনায় সাজানো আয়োজন হয়ে ওঠে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশনার মাধ্যমে। সমাপ্তি ঘটে ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ গানের আবেশময় পরিবেশনায়। একক আবৃত্তি, সহজপাঠ অবলম্বনে বৃন্দ আবৃত্তি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ’ নাটকের মঞ্চায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতি ও প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিস্ট অমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী কৌশিক চৌধুরী এবং ছড়াকার নাটু বিকাশ বড়ুয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. ইব্রাহিম শাহাদাত, আবুল কাশেম, সুরাইয়া খন্দকার দিশা, চিনু মারমা ও কৃষ্ণা ঘোষ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রচর্চা শিশুদের মনন, মানবিকতা ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দীপান্বিতার পাঠশালার হাত ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিল্প–সাহিত্য ও সংস্কৃতির পথে আরও এগিয়ে যাবে। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করে ক্ষুদে শিল্পী রা্ত শোয়ে নুয়েলী, জারিফ তাহমিদ, শোয়ে ইনজালি, সিনান মুসাইদ, ইলমা শাহাদাত, আরিজ ইফরাজ, জুনাইনা মায়ামীন, শেহজাদ আলম আদিয়ান এবং গাজী মো. আফসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফারজানা মাহজাবীন। এছাড়া আমন্ত্রিত নৃত্যশিল্পী রক্তিমা ঘোষের নৃত্য পরিবেশনাও দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের এক পর্বে শিশু শিল্পীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়।
এসময় পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা দীপান্বিতা বলেন, সংস্কৃতি ও সাহিত্যজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানুষ কখনো সংকীর্ণ বা বিপরীতমুখী মানসিকতার হয় না। শিল্প–সাহিত্য চর্চাকারীরা সবসময় সুর ও সৌন্দর্যের ভেতরেই অবস্থান করে। আয়োজকদের মতে, শিশুদের আগে নিজেদের কাছের মানুষদের সম্মান করতে শেখানোই প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তি। পাশাপাশি দীপান্বিতার পাঠশালার পক্ষ থেকে অতিথিদের উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আজকের যান্ত্রিক যুগে শিশুদের শৈশব যখন চার দেওয়ালে বন্দি, তখন রবীন্দ্রনাথের এই মুক্তচিন্তা ও শিশুদর্শন আমাদের প্রতিনিয়ত পথ দেখায়। শিশুদেরকে তাদের মতো করে বাঁচতে দেওয়াই হোক কবিগুরুর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।













