কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার ‘দাপট’

নৌ চলাচলে দুর্ভোগ

কাপ্তাই প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কচুরিপানার জন্য নৌযানগুলো জেটিঘাট থেকে সহজে বের হতে পারছে না। একবার পরিষ্কার করা হলে আবার কচুরিপানা এসে ঘাটে জমে থাকে। গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাপ্তাই জেটিঘাটে অবস্থিত নৌ অভ্যন্তরীণ লঞ্চঘাটজুড়ে বিরাজ করছে কচুরিপানার বিশাল স্তূপ।

লঞ্চঘাটের পরিচালক শীতল কুমার দাশ বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাটে নৌ যান চলাচলে একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হলো এই কচুরিপানা। কচুরিপানার চাপের কারণে যেকোনো নৌ যান সহজে ঘাটে ভিড়তে পারে না। আবার ঘাট থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে।

ইঞ্জিন বোট চালক শাহাদাত হোসেন বলেন, এখন যে কচুরিপানা দেখা যাচ্ছে বর্ষা মৌসুমে এই কচুরিপানার চাপ আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, জেটিঘাট বা এর আশেপাশে কখনো কচুরিপানার জন্ম হয় না। এসব কচুরিপানা কাপ্তাই লেকের দূরবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর ইত্যাদি উপজেলা থেকে কাপ্তাই জেটিঘাটে এসে জড় হচ্ছে।

জানা গেছে, কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন জেনারেটরের মাধ্যমে যে পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দিচ্ছে সেই পানির স্রোতের কারণে কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার চাপ বড়ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যখন জেনারেটর চালু থাকে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীতে পানি নির্গত হতে থাকে। এই কারণে জেটিঘাটের দিকে সবসময় পানির চাপ থাকে। যে কারণে জেটিঘাটে কচুরিপানাও আসতে থাকে। তবে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রায় সময় কচুরিপানা পরিষ্কার করে। তারপরও উজান থেকে পানির স্রোতের সাথে কচুরিপানাও আসতে থাকে। এই অবস্থাকে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে নোঙর করা মাছধরার ট্রলারে আগুন
পরবর্তী নিবন্ধ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষা অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মেয়র