সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ইন্তেকাল

আজ সকাল ১১টায় জমিয়তুল ফালাহ ও বিকেল ৫টায় মীরসরাইয়ে জানাজা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহিরাজেউন)। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল বিকেল ৫টায় ঢাকায় আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেল ৫টায় মীরসরাইয়ের মহাজনহাট স্কুল মাঠে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল বুধবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম(মীরসরাই) আসন থেকে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাবসেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও আতিথেয়তা শিল্পেও তার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সায়মান বিচ রিসোর্ট ও সায়মান হেরিটেজ রেসিডেন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই তাকে দূরদর্শী নেতা, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেছেন।

তাঁর দ্বিতীয় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব উর রহমান রুহেল ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্য দুই ছেলে মো. সাবেদুর রহমান সুমু ও আমিনুর রহমান রুমেল দেশের হসপিটালিটি খাতের পরিচিত ব্যবসায়ী। মেয়ে ডা. সামেনা জাবীন রীপা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেনচট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে হামে আরো ৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১২৬
পরবর্তী নিবন্ধবছরের শুরুতে এসএসসি, মাঝামাঝিতে এইচএসসি নেওয়ার প্রস্তাব