অর্থছাড় সংক্রান্ত জটিলতায় চীনা নির্মাণ সামগ্রী আসা পিছিয়ে গেছে

চমেক বার্ন ইউনিট প্রকল্প অর্থছাড়ের বিষয়টি সমাধানের শেষ পর্যায়ে বলছে কর্র্তৃপক্ষ

জাহেদুল কবির | বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড় না হওয়ায় নগরীর গোয়াছি বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজের চীনা নির্মাণ সামগ্রী আসা পিছিয়ে গেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনা নির্মাণ সামগ্রী আসার বিষয়টি চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গত মাসে জানায় চীনা প্রকৌশলীরা। অর্থের অভাবে এসব নির্মাণ সামগ্রী খালাস করতে না পারলে বন্দরের ডেমারেজ গুনতে হবে। তাই নির্মাণ সামগ্রী আসা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া শেষের দিকে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুরাহা হবে। এই পরিস্থিতিতে নতুন শিডিউল অনুযায়ী আগামী ২২ মে চীনের বন্দর থেকে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে রওনা দেবে জাহাজ। তবে বার্ন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, যথা সময়ে নির্মাণ সামগ্রী এসে না পৌঁছালেও নির্মাণ কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালের মূল ভবনের চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলমান আছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া ইক্যুইপমেন্ট বিল্ডিংয়ের কাজও চলছে। ভারি বৃষ্টিতে যাতে মূল ভবনের ওপর পাহাড় ধসে না পড়ে তাই পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের সয়েল নেইলিং (খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করা) করে কলাম বসানো হয়েছে। ঘাস লাগানোর কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৪৫ শতাংশের মতো শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। বাড়ানো প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে আছে।

জানা গেছে, বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আগুনে পোড়া রোগীদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট ও নানা সমস্যার কারণে এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে এসব রোগীকে ঢাকার বিশেষায়িত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ছুটতে হয়। সেখানে সারাদেশের রোগীদের চাপ থাকায় অনেক সময় চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা। বার্ন ইউনিট প্রকল্পের পরিচালক এবং চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনা নির্মাণ সামগ্রী আসার কথা ছিল। তবে অর্থছাড় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেটি পিছিয়ে গেছে। অর্থছাড় করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে আছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অর্থছাড়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দিকে রয়েছে। আশা করি, প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলবে।

উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালের গোঁয়াছি বাগান এলাকায় ১৫০ বেডের বিশেষায়িত ‘চায়না এইড প্রজেক্ট অব বার্ন ইউনিট অব সিমসিএইচ ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত ২০২৪ সালের ১২ জুন। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বার্ন ইউনিট প্রকল্পের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকার দেবে ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া চীন থেকে আমদানিতে ট্যাক্স ভ্যাট বাবদ ৭০ কোটি টাকাসহ সংযোগ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও কেমিক্যাল রিঅ্যাজেন্ট আনার খরচ ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি পুরুষ এইচডিইউ বেড, ১০টি মহিলা এইচডিইউ বেড ও ৫টি শিশু এইচডিইউ রয়েছে। এছাড়া ১১৫ বেডের ওয়ার্ডে মহিলাদের জন্য বেড রাখা হয়েছে ৪৫টি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আসছে ‘শিশু স্বর্গ’
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে