দুয়েক বছরের মধ্যে দেশে কোনো বর্গা শিক্ষক থাকবে না

বান্দরবানে বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

বান্দরবান প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানের লামা উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নুনারবিল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ‘অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিটিআই) পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। সোমবার (১১ মে) সকালে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরা মনি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হলেন তাপস কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষককর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নুনারবিল মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেটে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কোমলমতি ছাত্ররা। এ সময় তিনি গল্পের ছলে কিছুক্ষণ বিদ্যালয়ের মেঝেতে বসে কচিকাঁচা শিশুশিক্ষার্থীদের মুখে বর্ণমালা শুনেন। ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অপরদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও তদারকি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে নিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা, শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন করা। এসব দাবির সমর্থনে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিনসহ অন্যরাও সম্মতি দেন। দাবিগুলো প্রতিমন্ত্রী নোট করে নিয়েছেন। এরপর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিদ্যলয়ে বহুতল ভবন নির্মাণসহ প্রতিমন্ত্রী বরাবর কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী সৃষ্ট পদসহ জনবল বৃদ্ধি, ছয়তলা ভবন ও কম্পিউটার ল্যাব প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে ফটোসেশন করেন। পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি বলেন, প্রক্সি শিক্ষক বা বর্গা শিক্ষক কমবেশি গোটা দেশেই ছিল। তিন পার্বত্য জেলায় সংখ্যাটা হয়ত মাত্রা আরেকটু বেশি। বর্গা শিক্ষক সমস্যাটা নিরসনে শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়েই চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং পাঠদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। প্রযুক্তিগত সেবার আগেই বর্গা শিক্ষক সমস্যাটি সমাধান করা হবে। প্রযুক্তিগত সুবিধায় আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে প্রক্সি বা বর্গা শিক্ষকের কোনো জায়গায় থাকবেনা বাংলাদেশে। এদিকে প্রতিমন্ত্রী লামায় পরিদর্শনে আসলে পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকরা আলীকদমের প্রাথমিক শিক্ষার নানা সমস্যা, ইউএনডিপির থেকে জাতীয়করণে হওয়া ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগটি গ্রহণ করে আলীকদম শিক্ষা অফিসারকে বান্দরবানে ডেকে পাঠান। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাকসুর মেডিসিন কর্নার উদ্বোধন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ