কেউ মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকলে সহায়তা দেওয়া হবে

চট্টগ্রাম কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার প্রস্তাব

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী বন্দীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

গতকাল দুপুরে কারাগার পরিদর্শনে দিয়ে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন। মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দীদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বন্দীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।

এর আগে কারাগার অভ্যন্তরে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজনও করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দীদের সেল পরিদর্শন করে তাদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এরপর জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণসহ কারা হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে নারী বন্দীদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। বন্দীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশকাঠের নান্দনিক সামগ্রীও তিনি পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দীদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি। জেলা প্রশাসক কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। পরে তিনি পুরুষ বন্দীদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন। সেখানে বন্দীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দীদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দীদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নামের একটি ব্যবস্থা চালুর বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন চেয়ে জেলা প্রশাসন থেকে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে স্বজনরা ঘরে বসেই অনলাইনে বুক দিয়ে কিউআর কোডের মাধ্যমে কারাগারে প্রবেশ করে বন্দীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। আলোচনায় বন্দীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়টিও উঠে আসে। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরো এক লাখ টন ক্রুড অয়েল চট্টগ্রামের পথে
পরবর্তী নিবন্ধগর্ভের সন্তানের লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ অবৈধ : হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়