চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে আদালত পাড়ায়। ‘সাধারণ আইনজীবী ফোরাম’ নামে আওয়ামীপন্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকাল ৩ টার দিকে আওয়ামীপন্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য আইনজীবী ভবন তথা সমিতি ভবনের তৃতীয় তলার লাইব্রেরি রুম তথা নির্বাচন কমিশন রুমের সামনে যান। তবে তারা লাইব্রেরি রুমে প্রবেশ করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে সেখানেই আওয়ামীপন্থীরা অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, বিএনপি–জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দিয়েছেন। লাইব্রেরি রুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে মনোনয়ন ফরম নিতে দেওয়া হয়নি। তবে বিএনপি–সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি, সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। একটি নিষিদ্ধ দল সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনেরও তাদেরকে মনোনয়ন ফরম দেওয়ার এখতিয়ার নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে দিয়ে ব্যর্থ হয়ে নানা স্লোগান দিচ্ছেন আওয়ামীপন্থীরা। লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ‘ভোট চোর, ভোট চোর’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তুমি কে আমি কে, আইনজীবী আইনজীবী’, ‘ভুয়া ভুয়া’–এমন সব স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা কালো ব্যাজ পরে আদালত পাড়ায় মৌন মিছিলও করেন। এদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বহিরাগতদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা। আদালত পাড়ায় ককটেল ফোটানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আদালত পাড়ায় যখন নানা স্লোগান ও উত্তেজনা চলছিল তখন আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীও সেখানে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়। আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নেতা ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাধারণ আইনজীবী ফোরাম ব্যানারে আমরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি–জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা আমাদের পথ আটকে দেন। বাধা দিয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। গতবারের নির্বাচনেও একই রকমভাবে আমাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ আইনজীবী ফোরাম থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী সাবেক মহানগর পিপি আবদুর রশিদ বলেন, নির্ধারিত সময়ে এসেও আমরা ফরম নিতে লাইব্রেরি মিলনায়তনে ঢুকতে পারিনি। অথচ আগে থেকে একটি পক্ষ ভিতরে ছিল। তারা ফরমও নিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, সরকারিভাবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ। এটিতো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। সেই অনুযায়ী নির্বাাচন কমিশনের আওয়ামীপন্থীদের মনোনয়ন ফরম দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, অন্যান্য গণতন্ত্রমনা আইনজীবীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এনসিপি, এলডিপি, জামায়াত ইসলামীসহ অনেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এমনকি জমাও দিয়েছেন। আমাদের প্যানেল থেকেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা জমাও দিয়েছি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরা বেগম দৈনিক আজাদীকে বলেন, কে কাকে বাধা দিচ্ছে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের কাছে যারা এসেছেন, তাদেরকে আমরা মনোনয়ন ফরম দিয়েছি। যারা মনোনয়ন ফরম জমা দিতে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণও করেছি।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গত বছর তথা ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ২১টি পদে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের সবাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আর একটি সহ–সভাপতি পদ ও দুটি সম্পাদকীয় পদসহ সাতটি পদ পেয়েছিলেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। সেবারও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়ে নির্বাচন করতে পারেননি অভিযোগ আওয়ামীপন্থীদের।
প্রসঙ্গত, আগামী ২১ মে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষে গত ১ মে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ছিল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার তারিখ। আজ মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম বাছাই ও বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, আগামীকাল বুধবার মনোনয়ন ফরমের বৈধতা সংক্রান্ত আপত্তি শুনানী ও সিদ্ধান্ত, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার ও আগামী শনিবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।














