বকেয়া বেতন ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির দাবিতে নগরীর ব্যস্ততম সিএন্ডবি মোড় সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল আজিম গ্রুপের সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। তবে মালিক পক্ষের আশ্বাসে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করে শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। এর আগে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাটগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সড়কেই দাঁড়িয়ে থাকে রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও রাঙামাটির কাপ্তাইমুখী শত শত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী, চালকসহ সংশ্লিষ্টদের। আজিম গ্রুপের দুটি সোয়েটার কারখানার শত শত শ্রমিক কারখানার চত্বরেই গতকাল সকাল থেকে বকেয়া বেতন ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরে তারা সিএন্ডবি মোড়ের সড়কে এসে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও মালিক পক্ষের আশ্বাসের একপর্যায়ে অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলে বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিকরা যখন সিএন্ডবি মোড় সড়ক অবরোধ করে নিজেদের বকেয়া বেতন ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছিল, ঠিক তখন সেখানে গিয়ে হাজির হয় থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা। পরে মালিকপক্ষও সেখানে যুক্ত হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দোলনকারী এক শ্রমিক বলেন, ২০২০ সাল থেকে আমাদের টিফিন বিল সম্পূর্ণ দেওয়া হচ্ছে না। ২০২২ ও ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি বকেয়া। চলতি বছরের মার্চ মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে এপ্রিলের ৩০ তারিখ। কাউকে দিয়েছে ৭০ শতাংশ বেতন, কাউকে ১০ হাজার টাকা আবার কাউকে দিয়েছে ১২ হাজার টাকা। এছাড়া এক মাসের বেতন বাকী। তিনি আরো বলেন, আমাদের মূল দাবি হচ্ছে– গ্যাজেট অনুযায়ী বেতন দিতে হবে। মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সবার বেতন পরিশোধ করতে হবে। চলতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে গত এপ্রিলের বেতন দিতে হবে। আসন্ন ঈদের বোনাস ও অর্ধেক বেতন দিতে হবে। আমাদের পূর্বের সব পাওয়া পরিশোধ করতে হবে। মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, সেটিও দিতে হবে। আমরা নরম থাকলে তারা আমাদের হুমকি দেয়। চাকরি থেকে বের করে দেবে বলে। আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা ঘর ভাড়া দিতে পারি না। বাড়িওয়ালা ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বাকী টাকার জন্য দোকানদার ধাক্কা দিচ্ছে। পাওনাদার বলছে– আজকের মধ্যে টাকা না দিলে দেখে নিব। আমরা যাব কোথায়? আমরা তো নিরুপায়। দাদু অসুস্থ। আব্বুকে টাকা পাঠাবো বলছি কিন্তু পাঠাতে পারছি না। এক শ্রমিক বলেন, আমাদের টাকা দিচ্ছে না অথচ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক আজিম গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা আছেন তারা সংসদে বড় বড় কথা বলতেছেন। অথচ শ্রমিকদের নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না। জুলাই সনদ, এটা–ওটা নিয়েই চলছেন তারা। সারাদিন ৭১ এর চেতনা, ৪৭ এর চেতনা বিক্রি করছেন। সংসদ গরম করছেন। জনগণের ভোটে সংসদে যারা গিয়েছেন, তারা যেন শ্রমিকদের পক্ষে থাকেন–এটাই আমাদের দাবি। আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা রাস্তায় নামার পর শ্রমিক দল, এই দল–সেই দল, কত দল আসছে। আমাদের বুঝাচ্ছে। আরে, তারা এতোদিন ছিল কোথায়? শ্রমিকরা বলছেন, চার মাসের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি আর দেড় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বারবার মালিকপক্ষকে বললেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। বেতন না দিয়ে গড়িমসি করছেন। যার কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি।
শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মালিকপক্ষ দাবি করেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের কোনো অর্ডার নেই। তবুও তারা শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু ওভারটাইম মজুরির জন্য শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে গেছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে কথা বলতে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে শ্রমিকরা অবরোধ থেকে সরে গেলে সড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।














