মাহবুব-উল আলমের সমাজ-অন্বেষা নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে

আলোচনা সভায় আজাদী সম্পাদক

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ৩ মে, ২০২৬ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, মাহবুবউল আলম আমাদের সাহিত্যভুবনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। সত্যিকার অর্থে তাঁর লেখনী, জীবনদর্শন এবং বিপুল কর্মকাণ্ড এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সুবিশাল কর্মজীবনে তিনি সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর লেখালেখি ও সমাজঅন্বেষা নতুন প্রজন্মকে শেকড়কেন্দ্রিক মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক মাহবুবউল আলমের ১২৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা গত ১ মে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজাদী সম্পাদক বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছেযা উচ্চারণের সাথে সাথে আমাদের অন্তর শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে। আমরা সাহস পাই, আমরা অনুপ্রাণিত হই। এমনই এক নাম মাহবুবউল আলম। কালজয়ী কথাসাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া সৈনিকএ রকম বহু অভিধায় তাঁকে অভিহিত করা যায়। এসবকে ছাপিয়ে তাঁর যে পরিচয়টি আমার কাছে বড় হয়ে ওঠেতিনি ছিলেন নিখাদ একজন চট্টগ্রামপ্রেমী মানুষ। চট্টগ্রামের ভাষাকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন চট্টগ্রামের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে। তিনি বুঝেছিলেন, চট্টগ্রামের এই মাটির ভাষায় যে প্রাণস্পন্দন আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই।

ছোটকাগজ ‘তৃতীয় চোখ’এর উদ্যোগে নগরীর প্রেস ক্লাব ভবনে ক্লাব কলেজিয়েট চিটাগাং লি. অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. আনোয়ারা আলম, শিশুসাহিত্যিক ও কবি রাশেদ রউফ, অধ্যাপক মুজিব রাহমান এবং লেখক আজাদ বুলবুল। মুখ্য আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. কাইছার কবির। সভাপতিত্ব করেন কবি ফাউজুল কবির।

সম্মানিত অতিথি প্রফেসর এস এম নছরুল কদির বলেন, মাহবুবউল আলমের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সময় ও সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বিধায় প্রজন্মের চর্চার ভেতর দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।

. আনোয়ারা আলম বলেন, তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ, যিনি জ্ঞানচর্চাকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন। তাঁর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়।

রাশেদ রউফ বলেন, মাহবুবউল আলম চর্চা সাহিত্য ও বুদ্ধিজীবী মহলে থেমে নেই। সময়ে সময়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলো প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর লেখার মানবিকতা ও সমাজচেতনার অনন্য সংযোগ আমাদের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে।

অধ্যাপক মুজিব রাহমান বলেন, মাহবুবউল আলম বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখে গেছেন, তা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ছোটগল্প ও উপন্যাস বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। বিদ্যায়তনিক তথা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাঁকে নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

আজাদ বুলবুল বলেন, তাঁর সৃষ্টিশীলতা আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকে শক্তিশালী করেছে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলছে।

শুরুতে মুখ্য আলোচক ড. কাইছার কবির তাঁর লিখিত প্রবন্ধে বলেন, মাহবুবউল আলমের সাহিত্যকর্ম আমাদের জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করে এবং ইতিহাসসচেতনতার দিকনির্দেশনা দেয়।

অধ্যাপক ফাউজুল কবির বলেন, মাহবুবউল আলম সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক মানুষ ও ভারতীয় উপমহাদেশের কালজয়ী সাহিত্যিক ছিলেন।

আলী প্রয়াসের সঞ্চালনায় ও নাজমাতুল আলমের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহবুবউল আলমের জীবন ও কর্মের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন মাহবুলউল আলমের নাতি ড. মুনতাসির কামাল। আলোচনা পর্ব শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পী শীলা চৌধুরী, অর্পা দে, সৈয়দা উম্মে ফাতিমা সাদিয়া, সৈয়দা উম্মে হাবিবা সামিয়া, সৈয়দ নাজমুল হাবিব, সৈয়দ নাজমুল আলম ও রিয়াজ ওয়াইজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়
পরবর্তী নিবন্ধশ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ মেয়েরা