ঐ তো দেখছি কা’বা! পুরোটা দেখতে না পেলেও দেখা যাচ্ছে অনেকটাই। মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন পবিত্র প্রার্থনালয়। দেখি তো যেতে পারি কী না আরকেটু সামনে। না হয় এখানটাতেই বসার জায়গা করে নিতে হবে। আরে কাবা চত্বরে ইফতার করতে এসে চোখের সামনে কাবাই যদি না থেকে, তাহলে তো হাশিশদের যুক্তি মেনে, হোটেলই ইফতার করতে পারতাম! যুক্তি ওদের, হোটেল যেহেতু একই চত্বরে, অতএব ওই জায়গাটাও কাবা চত্বরেরই অংশ।
হারেম শরিফ দেখতে দেখতে ইফতার করলে বাড়তি কোন ছওয়াব হবে কী না? জানি না। ঘামাইনি মাথাও এ নিয়ে। এ তো হল লাভালাভির হিসাবহীন স্রেফ মনের ইচ্ছার ব্যাপার।
কালো সিল্কের উপর ২৪ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো রূপার সুতার ক্যালিগ্রাফি করা গিলাফটি দেখতে দেখতে ভাবি, ইস দেখতে পেতাম যদি মূল ঘরটি? সেই কবে পিতাপুত্র হজরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হজরত ইসমাইল (আঃ) এর হাতে নির্মিত ও পুনঃনির্মিত হয়েছিল এই প্রার্থনালয়। সেই থেকেই আছে দাঁড়িয়ে ঠায় এই ঘর। মাঝখানে একে ঘিরে হয়েছে কতই না ইতিহাসের বাঁক বদল।
আচ্ছা জেরুজালেম কী প্রাচীনতর? নাকি মক্কা? মসজিদুল আকসা প্রাচীনতর? নাকি কাবা? নবিজি (দঃ) মদিনায় হিজরত করে আনসারদের আতিথ্যে থাকাকালীন সময়তো জানি, মসজিদুল আকসাকেই কেবলা মেনে নামাজ পড়তেন। এতে কি প্রমাণিত হয় যে মসজিদুল আকসা প্রাচীনতর? না, তা হবে কেন? মসজিদুল আকসা তো বানিয়েছিলেন হজরত সোলায়মান (আঃ)। তাঁরই দাদার দাদা পরদাদা ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আঃ)! আবার হাদিস মতে কাবার গোড়াপত্তন তো হয়েছিল বাবা হজরত আদম (আঃ) এর হাতে। আচ্ছা বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত বাবা আদম (আঃ) তো পড়েছিলেন সিংহলে, মানে শ্রীলংকায়। অথচ তিনি কী না বানালেন কাবা মক্কায়?
মুসলিম বিশ্বের কাছে কা’বা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মসজিদুল আকসার গুরুত্বও তাদের কাছে কম নয়। কিন্তু ইহুদি বা খ্রিস্টানদের কাছে কা’বার গুরুত্ব কতোটা? একেশ্বরবাদিতার জনক হজরত ইব্রাহিম (আঃ) তো এই তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছেই অবশ্যই মান্য। সেক্ষেত্রে তাঁর হাতে পুনঃনির্মিত কা’বা তো তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু হয়েছে কি তা?
এদিকে তো আবার মক্কা, মদিনা ইহুদি খ্রিস্টানদের জন্য নিষিদ্ধ নগরী। নাহ, এ বড়ই জটিল বিষয়! এসব চিন্তায় লাভ নাই। আবার এসব নিয়ে প্রশ্ন করাটাও তুমুল ঝুঁকিপূর্ণ! থাকুক তবে ওসব এখন মুলতবি!
অনেকক্ষণই তো আছি দাঁড়িয়ে। সামনে, ডানে, বাঁয়ে যাচ্ছে যতদূর চোখ, অবস্থা তো ‘ঠাই নাই, ঠাই নাই’ তিনদিকেই। এই সামনেই আছেন বসে যারা লাইনে, পাত্তাই দিচ্ছেন না তাঁরা কেউ এই অধমের উপস্থিতির।
হুম, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে হবে না কিছুই দেখছি! এ জগতের নিয়ম মেনে এখানেও কেউ কাউকে দেয় না ছাড়, আপোষে! মাত্রই পেছনের কোত্থেকে যেন উদয় হলেন দীর্ঘদেহী এক আরব নাকি আফ্রিকান। খ্যাংরাকাঠি দুবলাপাতলা এই অধম বাঙ্গালকে কনুই মেরে, সামনের লাইনে বসে থাকা মানুষদের ঘাড়ের উপর পা তুলে, যাচ্ছেন উনি অবলীলায় চত্বরের গভীরে, কোথায় কে জানে?
তা হলে আমি বেকুবই বা আছি কেন দাঁড়িয়ে? তবে নিতান্তই দুর্বল এই তনু নিয়ে ঐরকম হুড়াহুড়ি ধাক্কাধাক্কি করতে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। অতএব এক্সিউজ মি, সরি, মালিশ ইত্যাকার শব্দ সহযোগে, হাতজোড় করে, অত্যন্ত তমিজের সাথে পথ করে, সামনের কয়েক লাইন পেরিয়ে আরেকটু গভীরে গিয়ে করে নিলাম বসার স্থান আলগোছে ঠেলেঠুলে!
বাহ, এরই মধ্যেইতো বেশ কিছু ইফতার সামগ্রী হয়েছে দেখছি জমা সবারই সামনে। হোটেল থেকে ইফতার না নিয়ে আসলেও সমস্যা হতো না। খেজুর, পানি, জুস, লাবান, কুনাফা, বাকলাভা এমন কী ছোট ছোট প্যাকেটে করে এসেছে ক্যাবসা জাতীয় কিছুও। আসছে আরো, এখনো। নানান কোম্পানি যেমন বিলাচ্ছে উদারভাবে ফ্রি স্যাম্পল, তেমনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মনে হচ্ছে দিচ্ছেন অনেকেই ইফতার।
এতেই গেল চলে মন, কিশোরবেলায়। সেসব দিনগুলোতে রোজার মাসে ইফতারের আগে দিতাম হাজিরা আমরা কয়েক কিশোর, কুমিল্লা লাকসাম রোডস্থ, জাঙ্গালিয়া ওয়াপদা কলোনির জামে মসজিদে। কলোনির নানান বাসা থেকে আসতো ওখানে নানান সুস্বাদ আইটেম। ইমাম ও মুওয়াজ্জিন হুজুরের সমূহ বিরক্তির কারণ হয়ে, ঐসব ইফতারের করতাম আমরা বণ্টন ব্যবস্থাপনা অনাবিল আনন্দে।
আচ্ছা, নানান কোম্পানি এখানে যেরকম ফ্রি স্যামপ্লিং করছে, আমরা কেন করছি না কিছু? অন্য কিছু না হোক, আমাদের যে ব্যথার ঔষধ আছে, তা নিয়ে তো করাই যায় কিছু না কিছু। নাহ হাশিসকে জিজ্ঞেস করতে হবে, এরকম কিছু দেখিনি কেন তার ব্রান্ডপ্লানে? বছর বছর এখানে দলে দলে ডাক্তারদের নিয়ে এসে, এরমক সায়েন্টিফিক মিটিং না করে, মাঝে মাঝে এখানে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করলেই তো হয়! হুম! সাধে কি আর বলে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে’? আচ্ছা, এসব চিন্তা করা কী ঠিক হচ্ছে আমার? তা হবে না কেন? এসেছি তো অফিসের পয়সায় অফিশিয়াল কাজে। অতএব পেশাগত ব্যাপার আসেই যদি মনে, সমস্যা কী? মনের দুই বান্দার এই বাদানুবাদের মধ্যেই এসময় গেল কানে আজান। অতএব দোয়াদুরুদ পড়তে পড়তে গেলাম লেগে ইফতারে।
এরপর মাগরিবের জামাত শুরু হতেই এক্তাদাইতুল বে হাজাল ইমাম বলে গেলাম দাঁড়িয়ে। কিন্তু হায়! যতোই চাই হতে গভীরভাবে নিবেদিত নামাজে, এই অধম গুনাহগারের চোখ দেখি ততোই তা উপেক্ষা করে ঘুরছে ডানে বাঁয়ে, সামনে! দেখছি নানানজনের নামাজ বাধা থেকে শুরু করে, রুকু, সেজদায় যাওয়ার নানান তরিকা।
খেলাম ভির্মি। সাথে সাথেই মনে হল, আরে এসব খুটিনাটি নিয়েইতো হয়েছে জন্ম অসংখ্য ফেরকার। কপাল ভাল যে আমাদের দেশসহ দিকে দিকে এসব নিয়ে মারামারি কাটাকাটি খুনাখুনি হলেও, এখানে নাই তা।
এদিকে নামাজ শেষ হতে না হতেই কি না, বসলো চেপে ঘাড়ে আযাজিল! সিগারেট টানার তীব্র ইচ্ছে দিয়েছে মাথাচাড়া! কিন্তু জানি না তো, কোন দিকে গেলে পাওয়া যাবে সেই ফুরসত। নাকি যাবো চলে হোটেলে?
নাহ, সারাদিনই পারলাম যখন, থাকবো না হয় আরো ঘণ্টা দুই কী তিন, সিগারেটবিহীন। এসেছিই যখন এক্কেবারে এশা, তারাবি পড়েই যাবো। এই ফাঁকে দেখি, কতোটা পারি যেতে কা’বার কাছাকাছি।
সে লক্ষ্যে ভিড় ঠেলে এই চলমান মানবসমুদ্রের আরো গভীরে যেতেই পেলাম টের, চলছে তাওয়াফ। কে জানে? হয়তো এখনই করছেন তাঁরা ওমরাহ। হাতে হয়তো সময় নাই তাঁদের। আছি তো আমি আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত। অতএব এখন এনাদের মাঝে ঢুকে আর ভিড় না বাড়াই।
ভাবতে ভাবতে, দোয়াদুরুদ পড়তে পড়তে গোটা তিনেক চক্কর দেয়া শেষে, এগুলাম নির্মাণাধীন আব্রাজ আল বাইত টাওয়ারের দিকে। এগুতে এগুতে উপরের দিকে তাকাতেই মনে হল আকাশ থেকে নেমে আসা আঁধারের চাদরের নীচে ওখানে মাথা নিচু করে আছে দাঁড়িয়ে সুবিশাল কয়েকটা উট। ঘাড়ের উপরে ওগুলোর দীর্ঘ শুঁড় টাটিয়ে বসে আছে বিরাটাকায় হলদেটে ফড়িংয়েরা।
আচ্ছা এই যে এতো বড় একটা কর্মযজ্ঞ চলছে, এর কর্মীরা কি সব মুসলমান? মক্কাতে তো ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের প্রবেশ নিষেধ। শুনেছি মাঝখানের সবচেয়ে উঁচু ঐ টাওয়ারটির, চার মুখে নাকি চারটা ঘড়ি বসানো হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর ওজনদার, মানে প্রায় ২১ টনের একেকটা ঘড়ি নাকি বানানো হচ্ছে জার্মানির কোন এক কোম্পানিতে!
থাক, আমি আদার ব্যাপারির ঐসব খবরে কাজ কী? এলাকাটা বরং একটু ঘুরেই দেখি।
দিককানা এ অধমের জন্য আঁধারে ঘাড় গুঁজে থাকা ঐ উটগুলো বিশাল এক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে কাজ করায়, করেছিলাম ঘোরাঘুরি নিশ্চিন্তেই। এরপর এশা ও তারাবি শেষে হোটেলে ফিরেই প্রথমে টেনেছি পর পর দুটো সিগারেট। তারপর দ্রুত ডিনার শেষে এলিয়েছিলাম গা বিছানায়; ঘুমের আশায়। কিন্তু হায়, বৃথা সে সাধনা!
অস্বস্তিকরভাবে বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে অবশেষে একসময় ফোন এলো হাশিশের। দ্রুত বিছানা ছেড়ে হাতমুখ ধুয়ে সেহরির উদ্দেশ্যে করলাম রওয়ানা ডাইনিংয়ে।
ওখানে পৌঁছুতেই হাশিশ, নিয়ে বসালো সায়েন্টিফিক সেমিনারে স্পীকার, বাত ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাঃ ওমার ইব্রাহিম নাবুলসির টেবিলে। পরিচয় পর্বের টুকটাক আলাপেই মনে হল বেশ আলাপি ও মজার মানুষ উনি। এসেছেন দাম্মাম থেকে। জানলাম তাঁকে, সৌদি আসার পর রিয়াদের পর দাম্মামেই গিয়েছি বেশী।
“তা কেমন লাগলো দাম্মাম?”
চমৎকার! বিশেষত আল খোবারের হাফ মুন বে রিসোর্টের সবুজের তুলনা নাই। আহা ঐখানে আমাদের লাল কৃষ্ণচূড়া দেখে কী যে ভাল লেগেছিল!
“তাই নাকি? আল আহসা তে তো যাও নি? সবুজ দেখতে হলে যেতে হবে ওখানে। এই ডঃ হাশিশ, তোমার বস এরপর যখন দাম্মাম যাবেন, আমাকে জানাবে। আমি তাঁকে আল আহসায় আমাদের খেজুরের ফার্মে নিয়ে যাবো।“
আচমকা অভাবিতভাবে পাওয়া এই নিমন্ত্রণের জবাবে জোড়হাতে মাথা ঝুঁকিয়ে পুনঃ পুনঃ থেঙ্ক ইউ, শোকরান, শোকরান জাজিলান, মাশকুরাহ, বলতেই, বললেন উনি
“মনে রেখো, ওখানাকার পুরো সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে রাত থাকতে হবে। ফার্মে থাকার ব্যবস্থাও আছে। সন্ধ্যার পর খেজুর গাছের নীচে বসে কফি খেতে খেতে আড্ডা হবে। রাত একটু বাড়লে বেরুবো শিকারে। সেই শিকার আগুনে ঝলসে কাবাব বানিয়ে খেতে খেতে হবে ফের আড্ডা।”
রাতেরবেলা শিকার! কী শিকার হবে রাতে? বুজতে পারছি না। তাও আড্ডার তাল না কাটার জন্য বললাম, তাই নাকি? মজার তো? মহাউৎসাহে বলতে শুরু করলেন এবার ডাঃ নাবলুসি “এই ধরো রাত ন টার দিকে রাইফেল নিয়ে বেরুবো। তবে রাইফেল দিয়ে শিকার করার চেয়ে ট্র্যাডিশনাল শিকারের মজাই আলাদা। ওটাই করবো।”
আচ্ছা তাই? কী রকম ওটা আবার?
“প্রথমে গর্তগুলো খুঁজে বের করতে হবে। ফার্মে আমাদের এক পুরানো কাজের লোক আছেন, এ ব্যাপারে মহাওস্তাদ। গর্তগুলো চেনে সে ঠিক ঠিক। ঐ শিকারে দুটো তরিকা।
প্রথমটা হল, গর্তের ভেতর উপর থেকে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে । সাথে গর্ত তাক করে জ্বালাতে নেভাতে টর্চ। এতে বৃষ্টি হতে যাচ্ছে মনে করে যেই না উনি বের করবেন মাথা গর্তের বাইরে, সাথে সাথেই ক্যাক করতে হবে তার ঘাড়! অবশ্য রিস্ক আছে এতে। যুৎমতো ঘাড় ধরতে না পারলে, ঘাড় ঘুরিয়ে এমন কামড় দেবে যে আঙ্গুল এক্কেবারে আলাদা হয়ে যাবে! সে দিক থেকে দ্বিতীয় পদ্ধতিটা নিরাপদ। এই তরিকায় শিকারী একটা উলের বড় গোল্লা নিয়ে বসেন গর্তের সামনে। এরপর উলের গোল্লা থেকে উলের মাথা বের করে সেটি চালান করে দিতে হবে গর্তে।
গর্তবাসি নিজ নাকের কাছে উল দুলতে দেখে, মুখ, পা নাড়িয়ে ওটা পরীক্ষা করতে গেলেই তো যাবে উল পেঁচিয়ে। তাতে বিরক্ত হয়ে আরো যখন নড়াচড়া করা শুরু করবেন উনি, উপর থেকে শিকারি ততোই ছাড়তে থাকবেন উল। এভাবে যখন গোটা শরীর ওনার প্যাচিয়ে যাবে উলে উলে, টেনে বের কার যাবে ওনাকে গর্তের বাইরে অতি সহজেই। তারপর আর কি খাও আগুনে ঝলসে!”
বাহ! খুবই ইন্টারেস্টিং তো? তা কী পাখি ওটা?
“নো নো ইটস নট বার্ড। আই মিন ইটস ডাব। ফোর লেগস। লং তেইল!” বলতে বলতে হাতের ইশারায় ডাঃ নাবলুসি যা দেখালেন, আর আঙ্গুল নেড়ে ওটার চলার যে ভঙ্গী করলেন, মনে হল বুকে হাঁটা কোন প্রাণীই হবে ওটা।
বিদ্যুৎঝলকে পড়লো মনে, আরে শুনেছিলাম তো মরুভূমিতে এক ধরনের গুইসাপ আছে। নাহ ঠিক গুইসাপ না, আমরা যেগুলোকে সান্ডা বলি, এ হল তা। সৌদিরা যে ঐ সান্ডা খায়, জানি তো তাও! এতক্ষণ তাহলে ঐ সান্ডা শিকারের তরিকাই শুনলাম! মুহূর্তেই ভেসে উঠলো মনের পর্দায় কয়লার আগুনে সান্ডা ঝলশানোর দৃশ্য! খাওয়া তো বন্ধ হলোই নিমিষে তাতে, সাথে গোটা পেট উগড়ে বেরুতে চাইলো বমি! নাহ, সেহরির টেবিলে এরকম বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার ঘটতে দেয়া যায় না। প্রাণপণে নিজেকে বোঝাতে বোঝাতে তুমুল চেষ্টায় ঠেকালামও তা। অতপর এক্সকিউজ মি, বলে টেবিল ছেড়ে উঠলাম এবার এমনভাবে, যেন আনতে যাচ্ছি কোন একটা বিশেষ পছন্দের আইটেম ফুড স্টেশন থেকে।
লেখক : ভ্রমণসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।














