জ্বালানি তেল উত্তোলক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।
সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে যে, যুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক হামলা থেকে আমিরাতকে সুরক্ষা দিতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেনি। এই অসন্তোষ থেকেই আরব আমিরাত ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক–পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতি নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার এই মুহূর্তে আরব আমিরাতের ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই জোটকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং জোটের ভেতর বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। আমিরাতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ১ মে থেকে। গতকাল বুধবার ওপেকের ভিয়েনা বৈঠকের আগে দেশটি এই ঘোষণা দিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানো এবং তেল উৎপাদন কৌশল ব্যবস্থাপনায় আরও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আমিরাতের পদক্ষেপকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট এবং এই জোটের কার্যত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, আমিরাতের ওপেক ছাড়ার পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বরাবরই এই জোটের সমালোচনা করে আসছেন।














