ভয়াল ২৯শে এপ্রিল : এখনো অরক্ষিত বাঁশখালী উপকূল

এস.এম ফরিদুল আলম | বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ

ভয়াল ২৯ শে এপ্রিলের ৩৬ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিল উপকূলে এ রাতে আঘাত হেনেছিলো মহাপ্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। এর ভয়াবহতা মনে হলে আজও শিউরে উঠে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলের নিরীহ মানুষ। লাশের পর লাশ ছড়িয়ে ছিল চারিদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। সহায় সম্বল ও স্বজনহারা উপকূলের কিছু মানুষ পেয়েছিলেন নবজন্ম। কেমন আছেন তারা? দুর্যোগ মোকাবেলায় কী অবস্থা এখন উপকূলের? আবারো এসে গেছে সেই ভয়াল ২৯ শে এপ্রিল। ৩৬ বছর আগের এই দিনে মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামকক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। চলছে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এপ্রিল মে মাসে একাধিক নিম্নচাপের আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু সম্পূর্ণ অরক্ষিত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর পতেঙ্গায়। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় প্রেমাশিয়ায় নতুনভাবে ৫/৬ চেইন বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ভয়ংকর বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ। পাশে প্রেমাশিয়া নয়াহাটের সন্নিকটস্থ ২/৩ চেইন নতুন ভয়ংকরভাবে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের অব্যাহত ভাঙন হয়ত অচিরেই হাটের পুরো অংশসহ উত্তর প্রেমাশিয়া ও দক্ষিণ প্রেমাশিয়ার চাষাবাদের জমিসহ লোকালয়, জনপদ, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মসজিদ এবং একাধিক মাদ্রাসা, উত্তর প্রেমাশিয়া ও দক্ষিণ প্রেমাশিয়া দুটো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারি সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি ও বেসরকারি শত শত অবকাঠামো, দুইটি হাইস্কুল ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিধ্বস্ত প্রেমাশিয়া হাটের ভাঙনটি অবিলম্বে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সাংসদ, সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহোদয়গণের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ৯১ সালের ওই দুর্যোগ এসব এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটালেও এখনো পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ হয়নি। ঘোর বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর, সাঙ্গুর লবণাক্ত জোয়ারের পানি ঠেকানোর নামে রিংবাধ নির্মাণ, ভাঙা বাঁধে বালির বস্তা দেওয়া সহ সংস্কারের নামে লোক দেখানো কিছু কাজ প্রতি বছরই করা হয় পাউবোর বিভিন্ন প্রকল্প। কিন্তু এসব প্রকল্পে ঘটে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের নয়চয়ের ঘটনা। বর্ষা আসলে ভেঙে যায় বাঁধ। উপকূলবাসীর ভাগ্য নিয়ে চলে নানান খেলা। দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ও লোপাট হলেও দীর্ঘ ৬৬ বছরে ও বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকা ভাঙতে ভাঙতে বাঁশখালীর মানচিত্র অনেক ছোট হয়ে আসছে এবং বহুমানুষ নদীভাঙ্গনের শিকারে সর্বস্বান্ত হয়ে গৃহহারা বাস্তুহারা হয়ে উদ্বাসু্ততে পরিণত হয়ে আবর্ণনীয় কষ্টে মানবেতরভাবে দিন যাপন করছে। ২০১৫ সালে সংস্কারের জন্য প্রথমে ২০৯ কোটি টাকা পরবর্তীতে কয়েক দফা প্রকল্পটির সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। উক্ত টাকা ব্যয়ে এই বাঁধের (মৌজাইক) ঢাল সংস্কারসহ ব্রীজ কোজিং ও পুনরাবৃতিকরণ ৯৯০০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ৩,৮৪৪ কিঃমিঃ বাঁধ পুনরাবৃত্তিকরণ ২০০০ কিলোমিটার কাজ করা হয়। ৬টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩৫টি প্যাকেজে বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের কাজ পায়। এলাকাবাসীর দাবী ছিল সেনাবাহিনী দিয়ে উক্ত কাজ করানো। কিন্তু জনদাবী উপেক্ষিত হওয়ায় উপকূলবাসী অরক্ষিত থেকে যায়। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে বর্ষা মৌসুমের পূর্বে স্থিত বাঁধটি উচু করে এলাকাবাসীর জানমাল সুরক্ষার জন্য স্থানীয় সাংসাদ এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সমীপে আকুল আবেদন করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহ্যাকারদের কবল থেকে সতর্ক হোন
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে