খালে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণেই জলাবদ্ধতা : মেয়র

জনভোগান্তি কমাতে সিডিএকে বাঁধ খুলে দিতে বলেছি বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি নেমে গেছে যেসব এলাকায় খালের কাজ চলছে না সেখানে পানি নেই

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মেগা প্রকল্পের আওতায় চলমান কাজের সুবিধার্ধে খালে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণেই গতকাল নগরে জলাবদ্ধতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জনভোগান্তি কমাতে সিডিএকে বাঁধ খুলে দিতে বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঁধ খুলে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আজাদীকে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, পানি উঠলে বা জলাবদ্ধতা হলে মানুষ সিটি কর্পোরেশন বা মেয়রকে দায়ী করে। কর্পোরেশনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেশি, সেজন্য এটা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজ করছে সিডিএ। তারা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে কাজ করছে। আজ (গতকাল) যে জায়গাগুলোতে জলাবদ্ধতা হয়েছে, বিশেষ করে প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, জিইসি মোড়, সাবএরিয়া, রহমতগঞ্জ, তিন পোলের মাথায় হিজরা খাল ও জামালখান খালের কারণে জলাবদ্ধতা। সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় এই দুটি খালের রিটেইনিং ওয়ালের নির্মাণকাজ করছে। পাশাপাশি মুরাদপুরে কালভার্টের কাজ করছে। কাজ করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়েছে। এই বাঁধ দেওয়ার কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, আবারও বলছি, যেখানে যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে সেখানেই জলাবদ্ধতা বেশি সৃষ্টি হয়েছে। আসলে এদেরও তেমন দোষ দেওয়া যায় না। কারণ এখন যে এত বৃষ্টি হবে সেটা তারাও বুঝতে পারেনি। কারণ বর্ষা তো এখনো শুরুই হয়নি। গত বছরের হিসেবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা আগামী মাসের শেষের দিকে, যেটা নভেম্বর পর্যন্ত চলে। যদি মে মাসের মধ্যে সিডিএ জামালখান ও হিজরা খালের কাজ শেষ হয় সেক্ষেত্রে আগামী বর্ষায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।

মেয়র বলেন, এ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সাথে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, যতটুকু কাজ হয়েছে সেখানে আপাতত কাজ স্টপ করে বাঁধগুলো খুলে দিয়ে মাটিগুলো যেন পরিষ্কার করে দেয়। প্রয়োজনে অবশিষ্ট কাজ যেন বর্ষার পরে করে।

ডা. শাহাদাত বলেন, সিডিএকে গত কয়েক মাস ধরে বলে আসছি, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য। তাদের সঙ্গে গত ১০১৫ দিনে তিনটি মিটিংও করেছি। তারা সেখানে বলেছে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে কাজ শেষ করবে। যদি কাজ শেষ নাও করতে পারে তাহলে সবগুলো বাঁধ খুলে দেবে বলেছে। আজ (গতকাল) আমি সরেজমিনে গিয়ে জনদুর্ভোগ দেখে তাদের বাঁধ খুলতে বলেছি। বিকাল ৩টার দিকে বাঁধ খোলার পর পানি আস্তে আস্তে নেমে গেছে।

তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের কাজ সিডিএ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে করলেও আমরা সবসময় সমন্বয় করি, তাদের সহযোগিতা করে আসছি। তদারকি করছি। যেমন আজকে অনেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে দেখেছি।

মেয়র শাহাদাত গতকাল সকাল থেকে মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, জামালখানসহ নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেছেন। এ সময় পানি জমে থাকা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোগান্তির বিষয়টি শোনেন।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমদ আজাদীকে জানান, পরিদর্শনকালে মেয়র হিজরা খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের জন্য নির্মিত বাঁধের কারণে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বাঁধ অপসারণ এবং দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রকল্পের সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

চসিকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে আলোচনা করে এসব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়। বাঁধ অপসারণের পর অনেক এলাকায় জমে থাকা পানি বিকালের মধ্যে দ্রুত নেমে যেতে থাকে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পরিদর্শনকালে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, প্রবর্তক, মেডিকেল এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। বাকলিয়া বিশেষ করে এক্সেস রোড, দক্ষিণ বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল, পশ্চিম বাকলিয়া পুরাটাই ঘুরেছি। আমি দেখতে পাচ্ছি বৃষ্টির কারণে প্রচুর পানি। যেখানে আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম আছে সেখানে মোটামুটিভাবে জলাবদ্ধতা হয়নি। যেসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন জলাদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করছে সেখানে দেওয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে।

তিনি বলেন, হিজরা খাল, জামালখান খাল, মুরাদপুর বক্স কালভার্টের কাজ এখনো শেষ হয়নি। প্রবর্তক, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ তিনটা এলাকায় একসাথে কাজ চলছে। সেখানে তারা বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়েছে। এখানে ১৮ থেকে ২২ ফিটের খালের পানি সরু একটা নালা দিয়ে, সরু টানেল যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এতে পানি যেতে অনেক সময় লাগছে এবং এখানে কোমর সমান পানি হয়ে গেছে, যেহেতু খুব বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কন্টিনিয়াস প্রসেসে আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রত্যেকটা সেবা প্রদানকারী সংস্থার সাথে মিটিং করেছি। তিন চার দিন আগেও আমাদের লাস্ট মিটিং হয়েছে। উনারা আমাদেরকে মে’র ১৫ তারিখের মধ্যে হিজরা খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুর বক্স কালভার্টের যে কাজটি চলছে সে কাজগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মেয়র বলেন, হিজরা খালের প্রত্যেকটা পয়েন্টে তারা বাঁধ দিয়ে রেখেছে, সেখারে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ চলছে। রিটেইনিং ওয়ালের কাজ চললে অবশ্য বাঁধ দিতে হয়। না হয় রিটেনিং ওয়ালের কাজ করা যায় না। জামালখান খালেও তারা বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে রেখেছে এবং মুরাদপুরে বক্স কালভার্ট করার জন্য বাঁধ দিয়ে রেখেছে, যার কারণে এসব এলাকায় পানি উঠেছে এবং পানির পরিমাণও অনেক উঁচু হয়ে গেছে। অন্যান্য যেসব এলাকায় খালের কাজ চলছে না সেই এলাকায় কিন্তু পানি নেই, অর্থাৎ সেখানে পানি কিন্তু উঠেনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একদিনে ৫ মৃত্যু